স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- বিতর্ককে সঙ্গী করে পথচলা সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারে লাগলো আরেকটি দাগ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অশোভন আচরণের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এখানেই শেষ নয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মোহামেডান অধিনায়ককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
শনিবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় গুলশানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই খবর জানান ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এর প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ।
সিসিডিএম কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে সাকিব শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে জানান কাজী ইনাম।
এর আগে সাকিব আল হাসানের শাস্তি ঘোষণা নিয়ে একের পর এক নাটক তৈরি হয়। বিকেলে একবার মোহামেডানের এক কর্মকর্তার উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়, চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। এরপর বলা হয়, না ওটা সত্যি নয়।
পরে জানানো হয়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবেন বিসিবির সিসিডিএম প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ। কিন্তু সাতটা বাজার একটু আগেই সে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।
অবশেষে সন্ধ্যায় বিসিবি সভাপতি নাজুমল হাসান পাপনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের শাস্তির বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। এসময়য় সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, সাকিব আল হাসান তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। সঙ্গে ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
আজ দুপুরের পর ম্যাচ রেফারি মোরশেদুল আলমের পাঠানো শাস্তির নোটিশ হাতে পান ওয়েস্টিন হোটেলে থাকা সাকিব। চিঠিতে সাকিবের বিরুদ্ধে লেভেল-৩ পর্যায়ের আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ এনে তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি।
সাকিব অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে চিঠিতে স্বাক্ষর করে দেওয়ায় এই শাস্তিই বহাল থাকবে। শাস্তির ব্যাপারে আপত্তি থাকলে শুনানিতে ডাকা হতো তাঁকে।
নিয়ম অনুযায়ী লেভেল–৩ পর্যায়ের অসদাচরণ প্রথমবার করলে শাস্তির বিধান আছে
কমপক্ষে ১ ম্যাচ থেকে সর্বোচ্চ ২ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ ও কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। একই ম্যাচে লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সেটির শাস্তি ২ থেকে ৫ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ ও জরিমানা কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা। দুই অপরাধের জন্যই ন্যূনতম ম্যাচে বহিষ্কার করা হয়েছে সাকিবকে। প্রথম অপরাধের জন্য ১ ম্যাচ ও দ্বিতীয় অপরাধের জন্য ২ ম্যাচ।
পরশু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব যেহেতু দুই বার এই আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাঁকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে সেভাবে।
