নজর২৪ ডেস্ক- মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে এত দিন মানুষের আনাগোনা ছিল ইলিশ খেতে যাওয়ার। খোলা হাওয়ায় বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি ঘাটের পাশে টিনের ছাউনির রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন পদের ইলিশের স্বাদ নেয়া নিত্য ঘটনা।
হঠাৎ করেই মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের ঘাট এলাকার পাশে গড়ে উঠেছে একটি রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। দেশের সবচেয়ে বড় রেস্টুরেন্ট হিসেবে দাবি করে প্রজেক্ট হিলশা জানায়, তাদের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মানসম্মত ইলিশ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
অবশ্য প্রজেক্ট হিলশা নিয়ে নানাজন যেমন আলোচনা করছেন, তেমনি করছেন সমালোচনাও। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।
ইলিশ মাছের কাঠামোতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। খাবারের দাম বেশি এমন দাবি করে ক্রেতারা সমালোচনা করলে সেগুলোও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
এরই মধ্যে দেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করতে শুরু করেছেন আরেকটি মাছের আকৃতির ভবনের ছবি। ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটির নাম ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’। এমনকি সেখানে খাবারের দামও প্রজেক্ট হিলশা রেস্টুরেন্টের চেয়ে কম।
অনেকে ছবিটি শেয়ার করলেও আসলে বাংলাদেশে কোথায় সে ভবন কিংবা ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ রেস্টুরেন্ট সেটি কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে গণমাধ্যম। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানেরই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।
মাছ আকৃতির ভবনটি আসলে ভারতের জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের (এনএফডিএ) হায়দরাবাদে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়। দেশটিতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে পুরো ভারতজুড়ে কাজ করে সংস্থাটি।

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ্রী শারদ পাওয়ার মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডটির ঘোষণা দেন। তখন থেকে বোর্ডটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে হায়দরাবাদ শহরের আমিরপিটের মৈত্রী বিহার কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে।
বিখ্যাত মার্কিন স্থাপত্যবিদ আলবার্ট কাহন ১৯২৮ সালে ডিজাইন করেছিলেন ফিশারিজ বিল্ডিং নামের ৩০ তলা একটি ভবন; যেটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত।
যদিও স্থাপত্য নকশায় ফিশারিজ বিল্ডিংয়ের আদল নেই সে ভবনের। কিন্তু সেই ফিশারিজ বিল্ডিং নাম থেকেই ভারত সরকার তাদের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের ভবন তৈরির অনুপ্রেরণা পায় বলে জানা গেছে। এরপরই ফিশারিজ ভবন নির্মাণের শুরু।
মন্ত্রণালয় এরপর হায়দরাবাদ শহরের পিভিএনআর এক্সপ্রেসওয়ের ২৩৫ নম্বর পিলারের কাছে নির্মাণ করে একটি মাছের আকৃতির ভবন। ২০১২ সালের এপ্রিলে সেই মাছ আকৃতির ভবনে অফিস শুরু করে ভারতীয় মৎস্য উন্নয় বোর্ড।
জানা গেছে, দৃষ্টিনন্দন হলেও ভবনটিতে দাফতরিক কাজে নিয়োজিতরা ছাড়া কোনো দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি ভবনটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও দাঁড়াতে দেয়া হয় না কোনো গাড়ি।
>>> আরও সংবাদ পড়ুন-
লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সেই মারুফের দিন কাটছে যেভাবে
নজর২৪ ডেস্ক- পুরান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকায় গত ২০ এপ্রিল সংবাদ প্রচার করছিলেন অনলাইন নিউজ পোর্টালের এক সাংবাদিক। তিনি যখন সরাসরি সংবাদ প্রচার করছিলেন তখন বুঝে ওঠার আগেই আচমকা ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে ১১ বছর বয়সী এক পথশিশু।
সে বলতে থাকে ‘আচ্ছা- যে লকডাউন দিয়েছে, সামনে ঈদ, মানুষে খাবে কী? মাননীয় মন্ত্রী যে একটা লকডাউন দিয়েছে সেটা ভুয়া, থ্যাংক ইউ।’

বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই পথশিশুটি ক্যামেরার ফ্রেম থেকে সরে যায়। পরে ওই ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই শিশুটির সাহসিকতা, সাবলীলভাবে কথা বলা ও স্মার্টলি ক্যামেরার ফ্রেম থেকে বেরিয়ে যাওয়া দেখে প্রশংসা করে। সবাই আগ্রহের সঙ্গে জানতে চায় কে ওই শিশুটি। পরে জানা যায়- ওই শিশুর নাম মারুফ। সে একজন পথশিশু।
বাবা-মা’র সঙ্গে থাকে না সে। তার বাবা মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে থাকেন। মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে গেছে। তারা এখন আলাদা সংসার করেন। বাবা ও মায়ের সংসার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর মারুফ বড় অসহায় হয়ে যায়। পরে সে ঢাকায় চলে আসে। ঠাঁই হয় সড়কের পাশে ফুটপাথে, পার্কের খোলা জায়গায়।
ঘটনার পরই পরই তার আরেকটি ভিডিও অনলাইন মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার বাম চোখ ফোলা দেখা যায়। তার বাম চোখ কেন ফোলা সে বিষয়ে তার এবং কারও পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও ওই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিশু এখন মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য করা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। তাকে সেখানে থাকা অন্য শিশুদের মতো তিনবেলা খাবার ও পড়াশুনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটি সবার নজরে আসে। পরে জানা যায় ওই শিশুটির নাম মারুফ। সে কোর্ট এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাসমান শিশু ছিল। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতো। তাকে বর্তমানে মিরপুরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য করা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার (ঢাকা সিএমএম কোর্ট) এসএস মাসুদ রানা গতকাল জানান, ওই শিশুটি সুবিধাবঞ্চিত ছিল। তার থাকা ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে মিরপুরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। যেসব শিশু এতিম ও অসহায় তাদের ওই আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়ে থাকে।
গতকাল সকালে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে মারুফের বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কোনো তথ্য দিতে চাননি। তারা সবাই বলেন যে, মারুফের বিষয়ে কথা বলা নিষেধ আছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেন্দ্রের এক কর্মচারী জানান, এ আশ্রয়কেন্দ্রে তাকে সবাই ‘লকডাউন মারুফ’ নামে চেনে। সে এখানে এসে প্রথমে থাকতে চাচ্ছিল না। সবাইকে বলতো যে, সে তার মায়ের কাছে যাবে। মুন্সীগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যাবে। কিন্তু, আশ্রয়কেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এখন সে আর কোনো কথা বলে না।
সূত্র জানায়, সব শিশুর মতো সে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নাস্তা করে। এরপর বই ও খাতা নিয়ে পড়তে বসে। দুপুরে খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়ে। বিকালে বসে এবং খেলে সময় কাটায়। সন্ধ্যায় আবার পড়তে বসে। রাত হলে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তাকে আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অনেক আদর ও যত্ন করে। এভাবেই ওই আশ্রয়কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা কাটছে তার।
