সরকার চরম বেপরোয়া ও বাড়াবাড়ি আচরণ করছে: সংসদে রুমিন ফারহানা

নজর২৪, ঢাকা- আমলা ও আমলানির্ভর এই সরকার চরম বেপরোয়া ও বাড়াবাড়ি আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা।

 

রোববার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ সালের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে আমলা ও আমলানির্ভর সরকারের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। আমলাদের বাড়াবাড়ি ও বেপরোয়া আচরণের শিকার হয়েছেন অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক এবং খাবার চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা ফরিদ আহমেদ। আমলা ও আমলানির্ভর এই সরকার চরম বেপরোয়া ও বাড়াবাড়ি আচরণ করছে।

 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ছয় ঘণ্টা সাংবাদিক রোজিনাকে যারা আটকে রেখে অপদস্থ করেছেন, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম ‘এখন এক কোটি দেব, পরে আরও পাবেন’, ‘৩৫০ কোটি টাকার জরুরি কেনাকাটায় অনিয়ম’, ‘পড়ে আছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী’, ‘কিটের ঘাটতি নিয়ে দুই রকমের তথ্য’, ‘উৎপাদনের নয়, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি গোপনীয়তার’ শিরোনামে নানা রিপোর্ট করে স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরেছেন। এসব কারণেই আমলানির্ভর সরকারের হাতে রোজিনা ইসলাম চরম হেনস্তার শিকার হন জানিয়ে তার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মহামারির শুরু থেকেই টিকা ব্যবস্থা নিয়ে নয়ছয় দেখা গেছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। মূল্য পরিশোধ করার পরেও টিকা আসে মাত্র ৭০ লাখ পিস। আর এরমধ্যেই একটি কোম্পানি লাভ করে নিয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় চাপের কারণেই সরকার বিকল্প পথে যেতে পারে নাই। এটা কে বলেছেন? বলেছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এবং তিনি যখন একথা বলেন সেটা নিয়ে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না। ‘

 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ বাড়লেও বিগত ১০ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের এডিপি বাস্তবায়ন এ বছরই সবচেয়ে কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে বাজেটের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। অথচ করোনায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, অকল্পনীয় দামে বালিশ, পর্দা, কাঁটাচামচ কিনতে দেখা গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ২৫০টাকার বিশেষ সুই ২৫০০ হাজার টাকায় কেনা হচ্ছে।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরেও দেশের ৪২ টি জেলায় এখনো সরকারি পর্যায়ে কোন আইসিইউ নেই কেন? চিকিৎসাসেবা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি খাতের ব্যয় কমার বদলে ৬৭ ভাগ থেকে বেড়ে দাঁডিয়েছে ৭২ ভাগ। এর ফলে স্বাস্থ্যব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *