এলজিইডির প্রকল্প: ৯টি গভীর নলকূপেই ব্যয় ১২০ কোটি টাকা

নজর২৪ ডেস্ক- একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩টি পৌরসভায় মাত্র ৯টি গভীর নলকূপ বসানো ও সেগুলো থেকে পানি সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। এতে একেকটি গভীর নলকূপের পেছনে ব্যয় পড়ছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

 

আবার দুটি বাস টার্মিনালের পরিসর বৃদ্ধি ও আরেকটি নতুন করে নির্মাণে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৫২ কোটি টাকা। একইভাবে ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রস্তাব করা হয় ১৯৫ কোটি টাকার তোঘলকি ব্যয়।

 

‘আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এভাবেই বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিপরীতে ‘অনুমাননির্ভর’ খরচ দেখিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

 

সরকারি সংস্থাটি একই প্রকল্পে সেতু, ওভারপাস ও উড়ালসড়ক নির্মাণ, সফটওয়্যার তৈরি এবং পরামর্শক ব্যয়ও বেশি ধরেছে। সরকারি টাকা খরচের অমন বাহার দেখে পরিকল্পনা কমিশন বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে কমিশন প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এ রকম খরচের প্রস্তাবকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছে।

 

এলজিইডির প্রকল্প প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়ে পরিকল্পনা কমিশন সবকিছুর নকশা তৈরি ও বিস্তারিত সমীক্ষা করে তবেই ব্যয় নির্ধারণ করতে বলেছে। এলজিইডির কর্মকর্তারাও অবশ্য স্বীকার করছেন, তাঁরা যে ব্যয় ধরেছেন, তা অনুমাননির্ভর ও সাময়িক। বলছেন, দরপত্র আহ্বানের সময় খরচ কমতে পারে।

 

এলজিইডি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং কক্সবাজার পৌরসভায় অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক কর্মকাণ্ডের এই প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা।

 

এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ দেবে ২ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে।

 

একটি গভীর নলকূপে ১৩ কোটি

 

প্রকল্পটির আওতায় কক্সবাজার পৌরসভায় পাঁচটি আর কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দুটি করে গভীর নলকূপ বসানো ও পানি সরবরাহে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে এলজিইডি। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ৯টি গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি বিতরণ ব্যবস্থার জন্য এত টাকা খরচ হওয়ার কোনো কারণই প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়নি।

 

একেকটি নলকূপ বসাতে ১৩ কোটি টাকার বেশি খরচ ধরার কারণ জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, এটা তো সাময়িক হিসাব। অনুমান করে ঠিক করা হয়েছে। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক ঠিক করে হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসা যেভাবে পানি সরবরাহ করে গ্রাহকের কাছে দেয়, আমরাও সেভাবে করব। আমরা গভীর নলকূপ স্থাপন করে গ্রাহকের কাছে বিতরণ পর্যন্ত পুরো কাজই করব।’

 

সাধারণত পৌরসভায় গভীর নলকূপ বসানোর কাজ করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। জানতে চাইলে ডিপিএইচইর ‘৪০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, যদি ভূ-উপরিভাগের পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট নির্মাণ করে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়, সে ক্ষেত্রে মোট খরচ পড়বে ৭ থেকে ১০ কোটি টাকা। আর যদি গভীর নলকূপ বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভের পানি কয়েক শ মানুষের মধ্যে বিতরণের প্রকল্প নেওয়া হয়, তাতে সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ৫০ লাখ টাকার মতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *