ইসরায়েলকে ১ ঘণ্টা সময় দিয়ে হামাস নেতার ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি হলেও সীমান্ত বন্ধ রেখে গাজাবাসীর ওপর আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। সরাসরি বোমা দিয়ে না হলেও সীমান্ত বন্ধ রেখে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দমানোর চেষ্টায় ব্যস্ত তেল আবিব।

 

এরইমধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধমন্ত্রী বেনি গান্তেজ হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইব্রাহিম সিনওয়ারের পাশাপাশি হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন কাসসাম ব্রিগেডসের কমান্ডার মোহাম্মাদ দেইফকে হত্যা করতে চায় তেল আবিব।

 

ইসরায়েলি এমন হুমকিতে ভয় না পেয়ে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের গাজা শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার।

 

ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের খবর অনুযায়ী, বুধবার (২৬ মে) টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বেনি গান্তেজকে এক ঘণ্টার সময় দিচ্ছি। পারলে আমাকে হত্যা করে দেখাক।

 

ওই সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম সিনওয়ারকে প্রশ্ন করা হয় তিনি এ হুমকিতে বিচলিত কিনা? উত্তরে এই হামাস নেতা বলেন, হার্ট অ্যাটাকে বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তার কাম্য নয় তিনি বরং ইসরায়েলি হামলায় ‘শহিদ’ হতে চান।

 

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থেকে বেনি গান্তেজকে এক ঘণ্টার সময় দিচ্ছি। আমি এখান থেকে গাজার রাজপথ ধরে পায়ে হেঁটে নিজের বাসভবনে যাচ্ছি। পারলে যেন তারা আমাকে এই সময়ের মধ্যে হত্যা করে।’

 

হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলেন, তারা গাজা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে মিনিটে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা রাখেন।

 

সিনওয়ারা বলেন, সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের শেষদিকে ইসরায়েলি আগ্রাসন কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়ার জন্য হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডস একসঙ্গে ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।

 

হামাসের এই নেতা বলেন, গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর অবস্থানে বিশেষ করে হামাসের সমরাস্ত্র ভাণ্ডারে হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। গাজায় হামাসের নির্মিত টানেলগুলো ধ্বংস করার ইসরায়েলি দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

 

সিনওয়ারা বলেন, গাজায় আমাদের নির্মিত ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা টানেল রয়েছে এবং ইসরায়েল সর্বোচ্চ মাত্র ৫ শতাংশ টানেলের ক্ষতি করতে পেরেছে। ফিলিস্তিনি জাতি কখনও ইসরায়েল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন বন্ধ করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

তিনি বলেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র পাল্টে যাবে এবং ইহুদিবাদী শত্রু আল-আকসা ও আল-কুদসে আমাদের নাগরিকদের বিজয় দেখতে পাবে। আল-আকসা মসজিদ রক্ষার জন্য এই মুহূর্তে অন্তত ১০ হাজার মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিনওয়ারা।

 

হামাসের এই নেতা কথিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূমিতে কথিত সহাবস্থানের পরিকল্পনার কবর চিরতরে রচিত হয়ে গেছে। এসময় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *