রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

নজর২৪, ঢাকা- দোকানপাট, শপিং মল রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকার পরিবর্তে সকাল ১০ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকলে দোকানপাট ও শপিং মলে ভিড় কম হবে।

 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে রোববার (০২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

 

বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান, মার্কেট ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে। ঈদের মাত্র ১০ দিন বাকি। চূড়ান্ত কেনাবেচাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখার সময়সীমা আরও চার ঘণ্টা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে।

 

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছেও।

 

সংগঠনটির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সই করা চিঠিতে দোকান মালিক সমিতি বলছে, চলমান লকডাউনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মার্কেট ও দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা সাধারণ বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ইফতার করে। কারণ সমস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় বাইরে ইফতার করার কোনো সুযোগ থাকে না।

 

অন্যদিকে বেসরকারি অফিস ৪টায় ছুটি হয়। তারা মার্কেটে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কেনাকাটা করে। এতে দেখা যায় এ সময় মার্কেটে ক্রেতাদের চাপ বাড়ে ও প্রচণ্ড ভিড় হয়। এছাড়া বাসায় গিয়ে ইফতার করতে সন্ধ্যা ৭টা বেজে যায়। মার্কেট ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও এক ঘণ্টার জন্য কেউ মার্কেটে আসে না। ফলে এ সময় মার্কেটে ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন টক শোতে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মার্কেটে কেনাকাটায় ক্রেতা সাধারণের প্রচণ্ড চাপ বাড়ে সেজন্য মার্কেট ও দোকানসমূহ সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখলে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্রেতা সাধারণের মার্কেটে যে ভিড় থাকে সেটা কমে যাবে ও ক্রেতা সাধারণ সময় নিয়ে কেনাকাটা করার সুযোগ পাবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে দোকান খোলার যে (সকাল ১০-রাত ৮টা) সময়সীমা দেয়া হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ীদের কোনো উপকারে আসে না। হোটেল- রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় রোজাদাররা ৫টার পর মার্কেটে থাকলে ইফতার করতে পারেন না। আবার ইফতারের পর নামাজ ও স্বল্প বিশ্রাম শেষে ৭টার আগে বেরও হতে পারেন না।

 

তিনি বলেন, ‘এরপর বাকি সময়টা মার্কেটে আসতে আসতেই শেষ হয়ে যায়। কেউ কেউ আসলেও সময় নিয়ে কেনাকাটা করতে পারেন না। সব মিলে ৭টার পরে মার্কেটে কোনো ক্রেতা থাকে না। তাই দোকান চালু রাখার সময়সীমা ১২টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে ইফতারের পরও মানুষ মার্কেটে আসবেন এবং স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারবেন।

 

‘মূলত বৃহৎ স্বার্থে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এই চিঠি দিয়েছে। আমরা আশা করি সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *