নজর২৪ ডেস্ক- দাবি উঠলেও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে এখনই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি শুক্রবার গণমাধ্যমকে এক প্রশ্নে বলেন, “ওই ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যদি বেরিয়ে আসে তাহলে গ্রেপ্তার (আনভীর) হবে, নিয়মের বাইরে কিছু করা যাবে না।”
কলেজছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া গুলশান থানায় আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। তিনিও আনভীরের গ্রেপ্তার দাবি করছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, “যিনি সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তিনি বিচার দিতেই পারেন। বিচারটি আমলে নেওয়া হয়েছে, তদন্তে যদি সব ঠিক থাকে, তা হলে গ্রেপ্তার হবে।”
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী এর আগে বলেছিলেন, তারা অভিযোগ প্রমাণের তথ্য সংগ্রহ করছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সায়েম সোবহান আনভীরসায়েম সোবহান আনভীরমামলার একদিন পর বুধবার হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন আনভীর। কিন্তু আদালত তার আবেদন গ্রহণ করেনি।
আনভীর দেশে আছেন বলেই পুলিশ ধারণা দিয়েছে। উপ কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, তার দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে আনভীরের স্ত্রী- সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিমান ভাড়া করে দুবাই গেছেন। তবে চেষ্টা করেও দেশ ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর।
সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। আনভীর নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো।
মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
