নজর২৪ ডেস্ক- প্রয়াত আমির শাহ আহমেদ শফীর অনুসারীরা হেফাজতে ইসলামের নামেই কমিটি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিগগির তারাও একটি আহ্বায়ক কমিটি করবেন। সেখানে বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন থেকে শুরু হওয়া টানা এক সপ্তাহের তাণ্ডবের পর গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে রোববার রাতে আচমকা কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়ার পর শফীপন্থিরা তৎপর হয়ে উঠেছে।
অবশ্য বাবুনগরী কমিটি বিলোপের সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যেই নিজেকে আমির করে পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন।
শফীর নেতৃত্বাধীন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী এই পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘বাবুনগরীর আহ্বায়ক কমিটি আমরা মানি না। শিগগির আমরা কমিটি ঘোষণা করব। সেখানে বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সদরদপ্তর হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার পর আল্লামা শফীর মৃত্যুতে হেফাজতে বিভেদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর ১৫ নভেম্বরের জাতীয় সম্মেলনে শফীর অনুসারী সবাইকে বাদ দিয়ে ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর পরপরই শফীপন্থিরা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকে বসেন। তবে সে সময় আর এই বিষয়ে আগায়নি তারা।
তবে বাবুনগরী কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার পর মাওলানা রুহী ফেসবুক লাইভে এসে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হেফাজত তার উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়েছিল। তাই এই সিদ্ধান্ত ছিল অবশ্যম্ভাবী।
তিনি বলেন, গত ১৫ নভেম্বর তথাকথিত কাউন্সিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ এবং হেফাজতের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে বিসর্জন দিয়ে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই তথাকথিত কমিটি মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় এসে আজকে দুঃখজনকভাবে হলেও বাস্তবতা উপলব্ধি করে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন কমিটির আমির সাহেব। আমি এই কমিটি বিলুপ্ত করার যে ঘোষণা এসেছে তাকে স্বাগত জানাই।’
ইসলামের জন্য এবং ইসলামের প্রচার-প্রসারের জন্য হেফাজতে ইসলাম কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমরা অতি শিগগির আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের নীতি আদর্শের হেফাজতে ইসলাম গঠন করব।
‘যে হেফাজতে ইসলামের কমিটি আমাদের আক্বাবীরীন। আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে ইসলামকে সংরক্ষণ করেছেন, ইসলামের ভাবধারা, ইসলামের ভাবগাম্ভীর্যকে সংরক্ষণ করেছেন, সেই পথ অনুসরণ করে আমরা হেফাজতে ইসলামের কমিটি শিগগির পুনর্গঠন করব এবং সংস্কার গ্রহণ করব।’
সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত এক ডজন হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার তালিকায় রয়েছে আরও দুই শতাধিক নেতাকর্মী। হেফাজত সরকারের সঙ্গে সমোঝতা চাইলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রস্তাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এরকম সব নেতাকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর মূলত জুনায়েদ বাবুনগরী এ সিদ্ধান্ত নেন।
২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নেয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হেফাজতের কমিটিতে যুক্ত হতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে নতুন নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ফলে সরকারও বাধ্য হয়ে ইউটার্ন নেয়। সু সম্পর্ক ছিন্ন করে কঠোরভাবে দমন করতে শুরু করে হেফাজতকে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রিয় ১২ জন নেতাসহ গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত ১৮ জনের বেশি প্রথম সারির নেতাকে।
এ অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে যিনি সব মহলে গ্রহণযোগ্য এবং আল্লামা শফীর অনুসারি। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে থাকতে পারবেন না, তাদের অবশ্যই হেফাজতের পদ ছাড়তে হবে। এমনকি কওমি মাদ্রাসা কিভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড, যেখানে হেফাজতে ইসলাম কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। কওমি মাদরাসা পরিচালনার সব সিদ্ধান্তই নেবে বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
