ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ জেলায় আংশিক লকডাউনের প্রস্তাব

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে সারা দেশেই, তার মাধ্যে ২৯টি জেলাকে সংক্রমণের হার বিবেচনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী ও চাঁদপুর রয়েছে এই ২৯ জেলার মধ্যে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব জেলাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান ডা. ফ্লোরা।

 

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ জেলায় আংশিক লকডাউনে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি। কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম ২৯ জেলার কিছু এলাকায় লকডাউন দেয়ার এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দিন দিন শনাক্তের হার যেভাবে বাড়ছে এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে অধিদপ্তরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা ২৯ জেলা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা যেতে পারে।’

 

এ ছাড়া এসব এলাকায় যেসব মানুষ বসবাস করেন, তাদের আশপাশে যারা আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন তাদের চিহ্নিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে বলে মত দেন তিনি।

 

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আগে থেকে সতর্ক হতে হবে। আবার যেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে সতর্ক হতে হবে। প্রতিনিয়ত করোনা শনাক্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে মানুষের উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে।’

 

বছরের শুরুতে করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে আসে এবং টিকাদান শুরু হলে মানুষ স্বাস্থ্যবিধিকে অনেকটাই উপেক্ষিত করতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেশের সব পর্যটন এলাকাও খুলে দেয়া হয়।

 

এমন অবস্থায় মার্চের শেষে এসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই দিন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের উপরে ছিল। যা দেশে সংক্রমণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ।

 

এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ঘটছে এমন ২৯ জেলাকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার সরকার ১৮ দফা নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সব ধরণের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগম সীমিত করা।

 

এই ১৮ দফা নির্দেশনার মধ্যে সরকার উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সকল ধরণের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করার নির্দেশনাও রয়েছে এর মধ্যে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, যেসব জেলায় উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে, প্রয়োজনে সেসব জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলা যোগাযোগও সীমিত করা হতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন জেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *