মুক্তমত ডেস্কঃ নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের সাথে আজ ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বেরও ৫০ বছর পূর্ণ হলো!
প্রেম-ভালোবাসা-বন্ধুত্ব কখনো একপাক্ষিক হয়না। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য, আমরা কৃতজ্ঞ। বিগত ৫০ বছর ধরে সে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে করতে আমরা আজ ক্লান্ত-শ্রান্ত, রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে এদেশের জনগণের।
এবার আমাদেরও নতুন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দিন। তিস্তার পানির ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে, সীমান্তে বিচার বহির্ভূত হত্যা চিরতরে বন্ধ করে, বিএসএফের মদদে সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা মাদক কারখানাগুলো ধ্বংস করে, ট্রানজিটের ন্যায্য ট্যারিফসহ অন্যান্য সকল ন্যায্যতা বুঝিয়ে দিয়ে প্রমাণ করুন আপনি যা বলছেন, সেটা মন থেকে আন্তরিকতার সাথেই বলছেন।
আর ৫০ বছরের পুরনো, এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়ি যেতে আবার ভিসা লাগবে কেন?? বাংলাদেশী পাসপোর্টের বিপরীতে অন এরাইভাল ভিসা দেয়ার ঘোষণা দিন।
স্রেফ কথায় নয়, কর্মে ও আচরণে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিন। বাংলাদেশ জানে কিভাবে বন্ধুত্বের মান মানতে হয়, এবার ভারতের পালা।
উল্লেখ্য, শনিবার মোদিজী সাতক্ষীরার ওরাকান্দিতে মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক হরিদাস ঠাকুরের জন্মস্থান ভ্রমণ করবেন। পশ্চিম বঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে, যারা ৫০ টি নির্বাচনী আসনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম বঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের মহামূল্যবান ভোটগুলো বিজেপির পক্ষে টানতে এটা হবে দারুণ মাস্টারস্ট্রোক!
এই ইকুয়েশনটা মিলে গেলে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আরো একটি উপলক্ষ মিলবে মোদিজীর 🙂
লেখকঃ গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

