নজর২৪, ঢাকা- কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরার মহাপরিচালক (এডিটিং কাউন্সিল) মোস্তফা স্যোউয়াগসহ চার জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলার আবেদন ফেরত দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত এ আদেশ দেন। ফলে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আর কোন মামলা হচ্ছে না।
মামলার আসামিরা হলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, সুইডেনপ্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল, হাঙ্গেরিপ্রবাসী বাংলাদেশি জুলকারনাইন সামি এবং আলজাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল ও প্রধান সম্পাদক মোস্তফা স্যোয়াগ।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি মশিউর মালেক মামলাটি দায়ের করেন। একইদিন আদালত মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তারপর আদালত শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেবেন বলে জানান। তবে ওইদিন মামলাগ্রহণের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে মামলার আবেদনকারী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি মশিউর মালেক জানান, আদালত বলেছে যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়েরের জন্য সরকারের অনুমোদন থাকার দরকার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন না থাকার কারণে আবেদনটি বাতিল করার কথা জানানো হয়।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন বলেন, আদালত বলেছেন যে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কোন মামলা করতে হলে সরাসরি সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে হয়।
তিনি বলেন, তবে কোন ব্যক্তি যদি মামলা করতে চায় তাহলে তাকে সরকারের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নিতে হবে যে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করতে পারবেন কিনা।
“যদি সরকার অনুমতি দেয় তাহলেই কেবল কোন ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন। এছাড়া নয়।”
সেকারণেই মামলার আবেদনটি আদালত আমলে না নিয়ে বাদী বরাবর ফেরত দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, বাদী সরকারি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই মামলার আবেদন করেছেন।
তবে বাদী যদি অনুমোদন নিয়ে আবার নতুনভাবে মামলাটি দায়ের করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে কোন বাধা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার আবেদনকারী মশিউর মালেক জানান, তিনি মামলাটি করার বিষয়ে অনুমোদন নিতে সরকারের সাথে যোগাযোগ করবেন। সরকার অনুমোদন দিলে তিনি সেটি নিয়ে মামলাটি আবার দায়েরের আবেদন করবেন। আর যদি অনুমোদন না দেয় তাহলে তিনি আর আবেদন করবেন না।
