আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে দেশের হস্তান্তর করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশটির বেসামরিক সরকারের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এমন পদক্ষেপ নিল সেনাবাহিনী।
সোমবার দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে সেনাবাহিনী। সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট।
জানা গেছে, গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে করা জালিয়াতির প্রতিক্রিয়ায় সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের তারা আটক করেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। আজ সোমবার সেনা নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেল মিয়াওয়াদ্দি নিউজের বরাতে এই তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
সেনা নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেল মিয়াওয়াদ্দি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে কারচুপির ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সেনাবাহিনী দেশটিতে আগামী এক বছরের জন্য ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। আজ থেকে আগামী এক বছর সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইং দেশ পরিচালনা করবেন।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রভাবশালী বিরোধী দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
কদিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল মিং অং হ্লাং বলেন, প্রয়োজন হলে সংবিধান বাতিল করা হতে পারে। তারপর থেকেই অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শুরু হয়। এরপর অভ্যুত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর নিন্দা জানায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। তবে এ আশঙ্কাকে ভুল বলে বিবৃতি দেয় সেনাবাহিনী। এর দু’দিন পরই গ্রেফতার হলেন সু চি, মিন্টসহ দেশটির নির্বাচিত শীর্ষ নেতারা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছে। প্রধান প্রধান শহরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
