নজর২৪ ডেস্ক- নিয়ম ভেঙে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে এক নারীর সঙ্গে হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাজাপ্রাপ্ত বন্দি তুষারের সময় কাটানোর জন্য কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছিলেন। এরমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন।
গত ১৪ জানুয়ারি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে দেওয়া জ্যেষ্ঠ জেল সুপার রত্না রায়ের প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজে রত্না রায়ের সম্পৃক্ততা দেখা গেলেও প্রতিবেদনে এই কর্মকর্তা নিজের কোনো দায় বা অবহেলার কথা উল্লেখ করেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশিমপুর কারাগার-১-এর দুজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন কর্মচারীকে ঘুষ দিয়েছিলেন তুষার। এরমধ্যে কারাগারের জেলারকে ১ লাখ, ডেপুটি জেলারকে ২৫ হাজার এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর, গেট সহকারী প্রধান কারারক্ষীকে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ দেন তিনি।
প্রতিবেদনে রত্না রায় ওই দিনের ঘটনার জন্য জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধাকে প্রধানত দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধার অনুমতি নিয়ে পুরো ঘটনার সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. সাকলায়েন ছিলেন। তিনি বলেন, ওই দিন দায়িত্ব পালনরত ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তবে জেলারের জবানবন্দি নেননি। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে রত্না রায় বলেন, যেহেতু পুরো ঘটনা জেলারের তত্ত্বাবধানে সংঘটিত হয়েছে, তাই জেলারকে না জানিয়ে ওই দিন যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে রত্না রায়ের মুঠোফোনে ও কারাগারের টেলিফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জেল সুপার রত্না প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে তাঁর অগোচরে ও গোপনে হয়েছে। কারাগারের গেটে জেলারই তাঁদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেন এবং ডেপুটি জেলার তাঁদের রিসিভ করেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়টি ওয়াকিটকির মাধ্যমে না বলে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে মুঠোফোনের মাধ্যমে হওয়ায় কেউ জানতে পারেনি। তাঁর দাবি, তাঁকে না জানাতেই এসব করা হয়েছে।
অবশ্য জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা তাঁর বিষয়ে জেল সুপারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি মাত্র চার মাস আগে এ কারাগারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জেল সুপারের নির্দেশেই তাঁদের দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁদের কারাগারে ঢোকার সময় জেল সুপার কারাগারের অফিসেই ছিলেন। তিনি ২০ মিনিট পর বের হয়ে যান। ওই প্রতিষ্ঠানের পরিবারের সবার সঙ্গেই জেল সুপারের সখ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি জঘন্য কাজ। কারাগারে এসব নিষিদ্ধ। এর পেছনে যারা দায়ী প্রাথমিকভাবে তাদের সকলকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও করতে বলা হয়েছে। কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব কারাগারের জন্য এটি সতর্কবার্তা। যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকবে, তারাই শাস্তির আওতায় আসবে। কেননা এটি জঘন্যতম অপরাধ।
প্রসঙ্গত, ৬ জানুয়ারি গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ভেতরে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরের শ্যালক একজন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় পার করেন। এতে সহযোগিতা করেন ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায়সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ নিয়ে কারাগারের মধ্যে তোলপাড় শুরু হলে কারা অধিদফতর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
একইসঙ্গে গত ১৮ জানুয়ারি এক আদেশে ওই ঘটনায় সহায়তার দায়ে ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ সাকলাইন, সার্জেন্ট আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করে কারা সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
