নজর২৪, ঢাকা- সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
সোমবার সকালে রাজধানীর মানিকনগরে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
মেয়র বলেন, ‘১০ জানুয়ারি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। তার আগের দিন ঘটা করে একটি সভা ডেকে আমার বিরুদ্ধে বিষোদাগার করা হয়েছে। এটা আমার মনে হয় তার ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরম্ভ করেছি। সেই অভিযান কার্যক্রম চলমান আছে। সেখানে আপনারা লক্ষ্য করেছেন মার্কেট সংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সেখানে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে। যাদের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছে, যারা টাকা দিয়েছে তারাই অভিযোগ এনেছে। আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে বা আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনও সময় কোনও অভিযোগ আনি নাই।
সেখানে যারা লেনদেন করেছে, যারা ব্যবসায়ী, দোকানদার বা অবৈধভাবে সেই জায়গাগুলো দখলে ছিল তারা অর্থ লেনদেন করেছে। এখন তিনি পুরো দোষ আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। সেটা আমি মনে করি খুবই অনভিপ্রেত এবং শুধু তার আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। আমি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।’
এর আগে গত শনিবার রাজধানীতে এক মানববন্ধনে শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন। এ ছাড়া শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন।
অন্যদিকে অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যোগ করেন সাঈদ খোকন। তার মতে, তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন।
মেয়র তাপসকে পরামর্শ দিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমি তাকে বলব, রাঘববোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন করতে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুন। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিন।’
