স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রথম ওয়ানডে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন রফিক। বর্তমানে নিজের ব্যবসা থেকে আয়-রোজগার করে পরিবার চালাচ্ছেন এই বামহাতী ক্রিকেটার। আর উপহার পাওয়া নিজের সবচেয়ে দামি জায়গায় হাসপাতাল-মাদ্রাসা তৈরি করেছেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
কেরানীগঞ্জে নিজের সবচেয়ে দামি জায়গা দান করে দিয়েছেন তিনি। আইসিসি ট্রফি জয়ে এই জায়গা উপহার পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটা দান করে দিয়ে সেই জায়গায় তৈরি করা হয়েছে হাসপাতাল, মাদ্রাসা এবং কবরস্থান। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রফিক জানান, “আমার এক পার্টনারের সাথে মিলে দেড়শ শতাংশ জায়গায় কবরস্থান, মসজিদ এবং মাদরাসা বানিয়ে দিয়েছি। আমার নিজস্ব জায়গার উপর। এটা কেরানীগঞ্জের সবচেয়ে দামি জমির এলাকা।”
“আরও কিছু জায়গা আছে, এর মধ্যে দশ শতাংশ জায়গা মসজিদ বানানোর জন্য রেখেছি। আরও দশ শতাংশ জায়গা রেখেছি, ওখানে স্কুল বানিয়ে দিব।”– যোগ করেন এই টাইগার সাবেক ক্রিকেটার।
জ্যেষ্ঠ এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব চান, কোনো মানুষের শিক্ষা-খাবারের চাহিদা অপূর্ণ না থাকুক। তার ভাষ্য, ‘স্বাধীনতার পর দেখেছি হাহাকার কী জিনিস। তখন যাদের পয়সা ছিল ওরাই স্কুলে যেত, ওরাই ভালো খাবার খেত। আমি চাই না এখন ওরকম পরিস্থিতি হোক। যে ভুল আমরা করেছি, এখনকার মানুষ যেন ঐ ভুল না করে।’
রফিকের মত যারা দেশের সেবায় মগ্ন, তাদের অনেকেই জড়ান রাজনীতিতে। রফিকের মত মানুষেরা রাজনীতির ময়দানে সফলও হন। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের অনেকেই নাম লিখিয়েছেন রাজনীতিতে। তবে সব পক্ষের ভালোবাসা প্রত্যাশী রফিক রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নন।
তিনি জানান, ‘আমি কখনোই রাজনীতিতে আসতে চাই না। ক্রিকেটার হিসেবে দেশের মানুষ তো আমাকে এমনিই চেনে। চাই না রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনুক। ক্রিকেটের জন্য চেনে এটাই ভালো। রাজনীতির জায়গাটা আলাদা। আমি রাজনীতি করলে দশটা দলের মধ্যে বাকি নয়টা দল আমাকে গালি দিবে। কিন্তু ক্রিকেটের পরিচয়ে দশটা দলই আমাকে সমর্থন করবে, পছন্দ করবে। তাই কখনো রাজনীতিটিতে জড়াতে চাই না আমি।’
রফিক বলেন, ‘আমি যা বলি তা আমার মনের কথা। কোনো কথা বানিয়ে, ভেবেচিন্তে বলি না। মন যেটা বলে সেটাই বলে দেই। হয়ত অনেক মানুষ আমাকে খারাপ ভাবে। কিন্তু মানুষকে খুশি করার জন্য মিথ্যা কথা বলি না।’
