ভাস্কর্য নিয়ে কড়া উত্তাপ: হেফাজতকে কঠোর বার্তা আ’লীগের

নজর২৪ ডেস্ক- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিষোদগারে রাজনীতির মাঠ গরম। রাজধানীর রাজপথে সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো।

 

আওয়ামী লীগের মিত্র দল ও সংগঠনগুলোও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সরব হয়ে উঠেছে। হেফাজতে ইসলামকে কোনোভাবেই ছাড় দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিভিন্ন সভা সমাবেশে হেফাজতে ইসলামকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সারা দেশে কিছু আলেম-ওলামা মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে। কোনো শক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।

 

তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে যারা আন্দোলন করেছিল তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। তাদের লজ্জা থাকা উচিত, তাদের মুখে হুমকি শোভা পায় না। সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে এই গোষ্ঠীর ধারণা থাকা উচিত।

 

আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামের নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য যদি অনবরত দিতে থাকে তাহলে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে না।

 

দলটির নেতারা বলছেন, দেশ কোন চেতনা ধারণ করে চলবে সেটি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মীমাংসা হয়ে গেছে। পাকিস্তান হানাদারবাহিনীকে পরাজিত করে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের যারা বিরোধিতা করছে তারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। তারাও কোনোভাবেই এ দেশে থাকার অধিকার রাখে না। আর তাদের কথায় তো দেশ চলতে পারে না! এ দেশ চলবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে।

 

হেফাজতে ইসলামও তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় আওয়ামী লীগ আরো কঠোর অবস্থানে চলে গেছে। রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো।

 

গতকাল সোমবারও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এছাড়াও সরকার সমর্থিত সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন হেফাজতের তিন নেতার নামে মামলা করেছে। হেফাজতে ইসলামের ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

যদিও হেফাজতে ইসলাম ও সমমনা দলগুলোর সমর্থিত আলেম-ওলামারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিরসন ও তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মতবিনিময় করার জন্য সাক্ষাৎ চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা চিন্তাভাবনা করছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

 

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী ওলামা লীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী গণমাধ্যমকে বলেন, হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করা নিয়ে এখন রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত দিয়েছে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদের জানা থাকা উচিত, ভাস্কর্য ও মূর্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

 

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম সমর্থিত আলেম-ওলামারা সংবাদ সম্মেলন করে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন। এটা নিয়ে এখনো চিন্তাভাবনা চলছে। আমি মনে করি, সরকারের উচিত হবে হেফাজতের সাথে সংলাপ করা।

 

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ ধর্ম উপকমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মওলা নকশবন্দী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, উদারতার ধর্ম। ইসলামে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রতার কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, আশা করি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *