নজর২৪ ডেস্ক- বদলে গেলো অসহায় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়া ভ্যানচালক শিশু শম্পার জীবনের গল্প। এখন আর সম্পাকে ভ্যান চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও বাবার চিকিৎসার খরচ যোগাতে হবে না। লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জীবন সংগ্রামী এই শিশু।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পার পরিবারের দায়িত্ব নেয়ায় ঘুচিয়ে গেলো শম্পার পরিবারের অভাব অনটন, অসহায় পরিবারটির করুন জীবন কাহিনীর গল্পের সমাপ্তি।
জামালপুরের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ভ্যানচালক শম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শম্পার বাবা শরিফুল ইসলামের চিকিৎসার খরচ বহন, নতুন ঘর নির্মাণ, শম্পার লেখাপড়ার খরচ ও তাদের নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার শুরু হয়েছে শম্পার পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দেয়া ঘর নির্মাণের কাজ। জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক এই ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু সম্পার বাবা শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। এখন সম্পা ও তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছে।
শরিফুল ইসলামের মেয়ে শম্পা খাতুন জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
৫ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙ্গে যায় শম্পার বাবা শরিফুলের। প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসার পরেও ভালো হয়নি শরিফুল ইসলামের ডান পা। এরপর থেকেই সবসময় বিছানায় থাকতে হয় শরিফুল ইসলামকে। সবজি বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন শম্পার মা নেবুজা বেগম। সেই উপার্জনেও যখন সংসার চলে না তখন বাবার ওষুধের টাকা সংগ্রহ করার জন্য দেড় বছর আগে ভ্যান চালানো শুরু করে শম্পা।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানিয়েছেন, ‘বাবার চিকিৎসার জন্য ভ্যান চালায় শিশু শম্পা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ নজরে পড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। শম্পা খাতুন জামালপুর সদর উপজেলার নাকাটি গ্রামের ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম ওরফে ভাসানীর দ্বিতীয় কন্যা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত সোমবার সকালে তিনি শম্পা ও তার পরিবারের খোঁজ নিতে সরেজমিনে যান। ওই দিনই জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক বুধবার সকালে ফের শম্পার বাড়িতে যান।
তিনি শম্পার বাবাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে তার চিকিৎসা হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শম্পার পরিবারকে একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ আজ সকালে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, শিশু শম্পার লেখাপড়াসহ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে যা যা প্রয়োজন তাই করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিনও এ সময় তার সাথে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিশু শম্পা বলে, “আমি আর ভ্যান চালাব না। এখন আমি লেখাপড়া করব। “এখন আর আমার চিন্তা নাই। চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বিগত দিনের কষ্টের কথা মনে পড়ে যায় শম্পার মা নেবুজা বেগমের। তিনি বলেন, “গত ৬ বছরে কোনো ঈদে শম্পার মুখে সেমাই তুলে দিতে পারি নাই। ঠিকমত খাবারও দিতে পারি নাই।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি এতই আনন্দিত হয়েছি যে এখন কথা বলতে পারছি না। কীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”
তাদের জন্য পাকা ঘর বানাতে ইতোমধ্যে নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছেছে উঠোনে।
সেসব দেখিয়ে নেবুজা বেগম বলেন, “বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট আসছে। বাড়ি তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। যা আমি জীবনে কল্পনা করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের অসহায় পরিবারগুলো ভালো আছে।”
