নজর২৪, ঢাকা- ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের যে পরিণতি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদেরও একই পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে অসংখ্য ভাস্কর্য আছে। কোনোটা নিয়ে কোনো কথা নেই। হঠাৎ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য কেন? আসলে মতলব কী? বক্তব্য প্রত্যাহার করুন। ধৃষ্টতা দেখাবেন না। নাহলে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে।’
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বানে মঙ্গলবার বিকালে সংক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদের সময় থাকতে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই মৌলবাদিরা তারাই যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এরাই যারা ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। সে সময় আপনাদের (ভাস্কর্য বিরোধিতাকারী) যা পরিণতি হয়েছিল, এখনো সেই একই পরিণতি হবে। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হোন। বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লাখো সৈনিক আছি।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “আমরা মনে করি, ভাস্কর্যের সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। কাজেই যারা বাংলাদেশে ভাস্কর্যের সাথে ধর্মের সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে মৎস ভবন থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, ঢাকা ক্লাব, শাহবাগ মোড় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক আবেদ খান, ইতিহাসের অধ্যাপক, গবেষক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তসহ আরও অনেকে কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এই কর্মসূচির মূল দাবি- অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার এবং জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
