নজর২৪ ডেস্ক: উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার প্রবেশদার সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ওপর অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’। আগামীকাল রোববার এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের রেল যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় শুরুতে ৯ হাজার ৭শ’ ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭শ’ ৮০ কোটি টাকায়। এর মধ্যে জাইকা ৭২ শতাংশ ও বাংলাদেশ সরকার ২৮ শতাংশ ব্যয় বহন করবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাশেই। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে থেকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
জানা যায়, বর্তমান বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশেই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’ নির্মাণ করা হবে। এর দৈঘ্য হবে ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। সেতুটি হবে ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক। ফলে আগের মতো ক্রসিংজনিত কারণে অপেক্ষা করতে হবে না পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে। এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি কমবে পরিচালন ব্যয়ও।
রেল সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই বছরই সেতুটি ট্রেন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে বর্তমানে ট্রেন চলে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে। সড়ক পথের পাশাপাশি প্রতিদিন এই সিঙ্গেল লাইন রেলপথে ২০ জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করলেও চলতে পারেনা বড় ও ভারী কন্টেইনারবাহী ট্রেন। সংকট সমাধানে প্রয়োজন হয়ে পড়ে আরেকটি সেতু।
তাই যমুনা নদীর ওপর মূলসেতুর পাশেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক রেল সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলাকে সংযোগকারী এই সেতুর দৈর্ঘ্য আগের সেতুর সমান অর্থাৎ ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার।
