কিভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সেটি সংসদীয় আসনের লোকজন জানেন না বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
রোববার (৩০ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে ইত্তেফাক ভবনে তার কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিককের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলীর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টেরি এল. এসলে ও আয়ারলান্ডের সিনিয়র সাংবাদিক ও পলিটিক্যাল এডিটর নিক পাওয়েল উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করবে, সেখানে হার-জিত হবে। আমি না মানতে পারি কিন্তু আমার এলাকার মানুষ তো জানবে আসলে ঘটনাটা কি ঘটেছে। তারা জানে না এই মিয়া কেমন করে এমপি হলো। তারা আমাকে জিগায় আপনি এমপি হইছেন নাকি শুনলাম। শুনছে আমি এমপি হইছি।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিলাম কিন্তু সেই সময় আর নাই। এখন নতুন জেনারেশন কি করে। তারাও আমাদের মতো আশা করবে, ফাইট করবে পরে হতাশ হয়ে মারা যাবে। কারণ এই দেশ এখন অত্যন্ত কঠিন, অত্যন্ত জটিল। এর ভেতরে অনেক কিছু লুকায়িত আছে।’
মঞ্জু বলেন, ‘তখন সরকারি দল আমাদের পেটাতো, এখনো পেটায়। আমি ১৯ বছর ধরে সরকারে আছি, সে কারণে আমি সরকার প্রধানের সমস্যা কিছুটা হলেও অন্যের চেয়ে বেশি বুঝি। অনেক সময় আমার তার জন্য দুঃখ হয়। সেও দেশের ভালো চায়। বঙ্গবন্ধু, এরশাদ আর জিয়াউর রহমান বলেন কে দেশের ভালো চায়নি।’
এসময় বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়েও আশা প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কে আসলো আর কে না আসলো এটি আমি চিন্তা করিনা। আর নির্বাচন করলেও জিততে হবে এমন কোনো কথা নেই। যে লোক হারতে না জানে তার নির্বাচনে আসা উচিৎ নয়।’
মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ভোট কেনা বেচা হয়, বন্ধুক আসবে, গুলি আসবে। আগের নির্বাচনের দশ দিন আগে আমাকে এলাকায় প্রচারণা করতে দেওয়া হয়নি। আমি সেখানে গণ্ডগোল করতে পারতাম, তখন বলা হতো ভান্ডারিয়া থেকে দেশে গণ্ডগোল শুরু হয়েছে। তবে দেশে গণ্ডগোল হবে, কিন্তু আমি চাইনা সেটি আমার এলাকা থেকে হোক।’
