যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিএনপির সঙ্গে তুলনা করে তাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের তুলনা কখনও বিএনপির সঙ্গে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য। আর বিএনপি প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে অবৈধভাবে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী হিসেবে। বিএনপি নিজেরা নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কোটালীপাড়া তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ভবেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা জনসভায় বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদেরকে বিএনপির সঙ্গে তুলনা করে কীভাবে। ২০০৮ সালের নির্বাচন তো সবাই মানে। সেই নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি আসন।’
বিএনপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা নিজেরাই নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না। তাদের গঠনতন্ত্রে আছে, সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামি দলের নেতৃত্বে আসতে পারবে না। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক দুজনই সাজাপ্রাপ্ত। অথচ তারাই সেই দলের নেতা। সুতরাং সেই দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না। যারা তুলনা করে ভুল করেন।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল গঠন হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। বিএনপি মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়। তারা সন্ত্রাস করে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের তুলনা হয় না।’
নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার এই জনসভায় তিনি উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের চিত্র তুলে ধরেন। উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা ৪৮টি প্রকল্পের নাম পাঠ করে শোনান। এক সময় গোপালগঞ্জ কতটা পিছিয়ে ছিল, এখন কতটা উন্নত সেই চিত্রও এলাকাবাসীর সামনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসতে সময় লাগত ২২ ঘণ্টা। আর আজ সকালে তিনি ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে গেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে পদ্মা সেতুর কল্যাণে।
