‘পরান’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন শরিফুল রাজ। এরপর ‘দামাল’ সিনেমাতে ফুটবল দলের অধিনায়ক মুন্না চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। ফুটবলে নিজের শরিফুল রাজের পছন্দের দল ব্রাজিল।
১৮ অক্টোবর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মেসির আর্জেন্টিনা। তবে, ব্রাজিলের সমর্থক হলেও মেসির হাতে কাপ উঠুক এটা চেয়েছিলেন তিনি।
শরিফুল রাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। তারপরেও আমি ফাইনালে চেয়েছি মেসির হাতে বিশ্বকাপ উটুক। বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা পাক। ক্লাব পর্যায়ের খেলায় মেসিকে আমার দারুণ পছন্দ। এছাড়া আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার রোনালদিনহো। মেসির ক্লাব ফুটবলের ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাসহ অনেক কিছু তার ছিল। কিন্তু তার নামের পাশে একটি বিশ্বকাপ ছিল না, এইবার সেটা যুক্ত হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ব্রাজিল সমর্থক হয়েও চেয়েছিলাম আর্জেন্টিনা জিতুক। এটা যে কী সুন্দর দৃশ্য বোঝাতে পারবো না। পরী আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক। খেলায় সময় দোয়া পড়ছিলাম যেন মেসির দল বিশ্বকাপ জিতে যায়। ওর আশা পূর্ণ হয়েছে দেখে আরও ভালো লাগছে।’
এদিকে আর্জেন্টিনার প্রতিটা ম্যাচের সময় ঘরে বসে টেলিভিশনের সামনে মেসির জন্য গলা ফাটিয়েছেন পরীমণি। তিনি চেয়েছিলেন, মেসির হাতে কাপটা উঠুক। তার চাওয়াই পূরণ হয়েছে। আর তাই এখনও ঘোরের মধ্যে আছেন এই নায়িকা।
পরীমণি বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, এখনও আমি ঘোরের মধ্যে আছি। মনে হচ্ছে এখনও খেলা চলছে। খেলার ফলাফল এই বুঝি কী হয়ে যায়। ঘোরই কাটছে না। আমার বয়সে এমন শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ আগে দেখিনি। খেলা চলাকালে প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে আতঙ্কিত করেছে।’
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) খেলা শুরুর আগে ফলাফল নিয়ে সারাদিন চিন্তায় ছিলেন পরী। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলাফল কী হবে—এ নিয়ে গতকাল সারাদিনই আমার মধ্যে টেনশন কাজ করছিল। টেনশন কমাতে খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই আমি শুয়ে পড়ি। রাজ খেলা দেখছিল। যখন মেসিরা দুই গোল দিয়ে দেয়, তখন রাজ আমাকে খবরটি জানায়। আমি চিৎকার দিয়ে আবার খেলা দেখতে বসি।’
ফ্রান্সের সাথে খেলায় প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে যখন গোল শোধ হয়ে যায় তখন পরীর হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। নায়িকা বলেন, ‘যখন গোল পরিশোধ হয়ে যায়, আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। আমি আর টেলিভিশনের সামনে থাকতে পারিনি। ওই সময় আমার যা অবস্থা হয়েছিল, আর্জেন্টিনা হেরে গেলে আমাকে নির্ঘাত হাসপাতালে নিতে হতো রাজকে। ওই সময় আমি পাগলের মতো বারবার বলছিলাম, মেসি তুমি কিছু একটা করো, কিছু একটা করো।’
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এই জয় চোখে জল এনে দেয় পরীমণির। কেঁদেই যাচ্ছিলেন তিনি। তার স্বামী শরিফুল রাজ তা গোপনে ভিডিও করেন।
