আট বছর পর ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

‘ওলে ওলে আর্জেন্টিনা, ভামোস আর্জেন্টিনা’ গানে মুখরিত লুসাইল স্টেডিয়াম। কাতারের এই স্টেডিয়াম যেন আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স। ৮৮ হাজার দর্শকের মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি ছিলেন মেসি ভক্তরাই। আর্জেন্টিনার জয় মানে উল্লাস। অন্য ম্যাচের তুলনায় আজ ছিল বেশি। ৩-০ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে আট বছর পর আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে যে!

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপটা রাঙিয়ে তুললেন। নিজে এক গোল করেছেন, আরেক গোল করিয়েছেন, অবদান রেখেছেন আরও এক গোলেও৷ পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের যেমন দাবিদার তেমনি গোল্ডেন বলেও সমান দাবি রাখবেন এই আর্জেন্টাইন।

মেসির ঝলকের সাথে এই ম্যাচে আলো কেড়েছেন ইউলিয়ান অ্যালভারেজ। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেছেন তিনি। কিক অফ জোন থেকে বল একাই টেনে নিয়ে গেছেন। দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে গোল করেছেন। অ্যালভারেজের এই গোল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলকেও যেন স্মরণ করিয়ে দিলো একটু করে।

৩৯ মিনিটে অ্যালভারেজের করা গোলের আগে ম্যাচের লিড এনে দেন অধিনায়ক মেসি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন এই মহাতারকা। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড অ্যালভারেজকেকে ফাউল করেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ডিফেন্ডার পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করায় তাকেও একটি কার্ড দেন। ক্রোয়েট গোলরক্ষক ব্রাজিলের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে শট রুখে দিলেও আজকের ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন।

পেনাল্টিতে গোল খাওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। ক্রোয়েশিয়া দারুণ ভাবে খেলায় ছিল। বল পজেশন, আক্রমণ সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল। আর্জেন্টিনা কাউন্টার অ্যাটাকেই খেলার চেষ্টা করেছে। ত্রিশ মিনিটে বল পজেশন ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি। ৩৪ মিনিটে পেনাল্টির পরই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া; যারই ফল, পাঁচ মিনিট পর আরও এক গোল হজম!

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন মেসি। কিন্তু তার জোড়ালো শট সরাসরি প্রতিহত করেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক। ৬৯ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে আর্জেন্টিনা। গোলটি করেন আলভারেজ। তবে গোলটি যত না তাঁর, তার থেকে অনেক বেশি মেসির। ডান প্রান্তে সাইড লাইনের কাছে বল ধরে ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের কাছে নিয়ে এগিয়ে যান মেসি। পায়ের কাজ দেখাতে দেখাতে বক্সে ঢোকেন। তার পরে বল রাখেন অরক্ষিত আলভারেজের কাছে। ডান পায়ে তার দুর্দান্ত ফিনিশিং (৩-০)।

একটু পর আলভারেজকে তুলে নেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তার বদলে মাঠে নামেন পাওলো দিবালা। যার খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল সবাই। চলমান বিশ্বকাপে এই প্রথম মাঠে নামলেন রোমার তারকা এই স্ট্রাইকার।

শেষের দিকে গোলের জন্য মরিয়া ছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু কাঙ্খিত সেই গোলের নাগাল পায়নি মদ্রিচরা। ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর আবারও ফাইনালে যাওয়ার আনন্দে মাতে টিম আর্জেন্টিনা।

ম্যাচে বল পজিশনে অনেক এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া, শতকরা ৬১ ভাগ। তবে ১২টি শটের মধ্যে দুটি মাত্র লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মদ্রিচরা। সেখানে ৩৯ ভাগ বল পজিশনে রাখলেও ৯টি শটের মধ্যে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা। মেসিরা মাত্র দুটি কর্ণার আদায় করতে পারলেও ক্রোয়েশিয়া পেয়েছিল ৪টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *