প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ, মিছিল-স্লোগানে মুখর চট্টগ্রাম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১১ বছর পর আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরে দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেবেন। নগরের পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা।

সভায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছেন নেতারা।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জনসভা সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।

এদিন সকাল ৮টা থেকে জনসভার মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। নগরী ছাড়াও জেলার বাইরের ১৫টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে জনসভাস্থলের দিকে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরেও আসছেন সাধারণ মানুষ। জনসভায় আসা অধিকাংশ কর্মী বিভিন্ন নেতার ছবি সংবলিত টি-শার্ট পরে আছেন। কোনও কোনও দল ব্যান্ড পার্টি নিয়ে জনসভার মাঠে ঢুকছে।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) থেকে হেলিকপ্টারযোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে নামবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে জনসভার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাদের তদারকিতে সুন্দর একটি ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এটি স্মরণকালের বড় জনসভা হবে।

এই জনসভাকে ঘিরে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রচার চলছে। নগরের অলিগলি রাজপথ ছেয়ে গেছে পোস্টার ব্যানার ও তোরণে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক ব্যবহার করে জনসভায় যাওয়া-আসা করবেন, সেসব সড়কে ব্যানার-পোস্টার লাগানোর জায়গা নেই। ইতোমধ্যে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে জনসভার দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ। ৩ হাজার ৫২০ বর্গফুটের এই মঞ্চে কমবেশি ২০০ মানুষ বসতে পারবেন।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনসভা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ আগে থেকে জনসভাস্থলসহ সম্ভাব্য সব স্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে কেবল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সাত হাজারের বেশি পুলিশ থাকছে।

জনসভা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ৩০০ মাইক বসানো হয়েছে। জনসভাস্থলের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত জনসভার মাইকের শব্দ পাওয়া যাবে। মাঠে থাকবে ৩০ পেয়ার সাউন্ড সিস্টেম। নগরের দেওয়ানহাট, সিআরবি, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, কদমতলী, স্টেশন রোডসহ আশপাশের এলাকায় এই মাইকগুলো লাগানো হয়।

এ ছাড়া টাইগারপাস দেওয়ানহাট, সিআরবি, স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি বড় পর্দা লাগানো হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *