ঐন্দ্রিলাকে হারিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন জয়া আহসান

টানা ২০ দিনের প্রাণপণ লড়াই। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। বয়স চব্বিশেই থেমে গেল জীবন ঘড়ি। আপনি যদি এতটুকুতেই দাঁড়ি টানেন তবে দরজার ওপাশের লড়াকু এক যোদ্ধাকে মিস করবেন। এতটুকুন জীবনেই রেখে গেলেন আমৃত্যু লড়াইয়ের এক অনুপ্রেরণা।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ থেকে তারকারা। শুধু সেখানেই নয়, বাংলাদেশের অনেকেই শোক করেছেন ঐন্দ্রিলার জন্য। তাদের একজন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।

নিজ ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে ঐন্দ্রিলার ছবি পোস্ট করে তাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী।

এতে জয়া লেখেন, ‘ঐন্দ্রিলাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তবে ওই কিছু মানুষ থাকে না, যাদের দেখলেই কেমন যেন জীবন ঝকমকিয়ে ওঠে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ও ঠিক তেমনই জীবন হয়ে আমার কাছে ধরা দিয়েছে বারবার। সবসময় মুখে উজ্জ্বল হাসি, জীবনীশক্তিতে দৃপ্ত চোখ, জীবনের প্রতি মুহূর্ত আদর করে বেঁচে নিচ্ছিল মেয়েটা; সঙ্গে বাঁচার আসল মর্মটুকু শিখিয়ে যাচ্ছিল আমাদের প্রতিনিয়ত।

‘কী হবে জীবন, যদি তা এমন অন্ধকার দিনে ব্যথিয়ে না ওঠে…আজ ওর শেষযাত্রায় যে অসীম অনুপ্রেরণা রেখে গেল ঐন্দ্রিলা, তাতেই শান্তি আসুক…এমন অনুপ্রেরণা ভেন্টিলেশনের হাজার সুচকে বারবার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই অসীম ক্ষমতায় ঐন্দ্রিলা আজ জয়ী… মৃত্যু, শোক, ওকে ছুঁয়ে নতুন অর্থ পেল। ভালো থেকো লড়াকু মেয়ে, মনের মাঝে জীবনচেতনা হয়ে অমর থেকো আজীবন।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত ১ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঐন্দ্রিলাকে ভর্তি করা হয় হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, স্ট্রোক করেছেন ঐন্দ্রিলা। কোমায় চলে গেছেন তিনি।

ঐন্দ্রিলাকে রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। সেখান থেকে আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি। রোববার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ২৪ বছর বয়সী এ অভিনেত্রীর।

এর আগে দুইবার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ঐন্দ্রিলা। ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়ে তার। দ্বিতীয়বার ক্যানসার হয় ২০২১ সালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *