জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেয় রেজাউল

ঢাকা: রাজধানীর পান্থপথে আবাসিক হোটেলে নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাইম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার সঙ্গী রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাব- ২ এবং র‍্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার একটি মেস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি, মোবাইল, ব্যবহৃত ব্যাগ ও জান্নাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রেজাউল (৩১) কক্সবাজারের মৃত নবী হোসাইনের ছেলে। রেজাউল ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করে। এমবিএ চলাকালে সে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এরপর সে একটি বেসরকারি ব্যাংকেও কর্মরত ছিল। ২০২২ সালে জুনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করে রেজাউল।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।

নিহত নারীর সঙ্গে পরিচয় প্রেম ও হত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রেজা র‌্যাবকে জানায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্ক। ২০২০ সালে অক্টোবরে বিয়ে করেন তারা। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন।

বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যেও রেজার একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক ছিল। তা স্ত্রী জেনে যাওয়ায় মনোমালিন্য ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে জান্নাতুল নাঈম স্বামী রেজাকে কাউন্সেলিং ও আলাপচারিতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

বিভিন্ন সময় বাগবিতণ্ডার মধ্যে স্ত্রীকে প্রতিবন্ধক ভাবতে শুরু করেন। স্ত্রীকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন রেজা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কদিন ধরেই স্ত্রীকে হত্যার জন্য কাঁধের ব্যাগে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিলেন রেজা।

গত ১০ আগস্ট চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে পান্থপথের ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্টে নামে একটি আবাসিক হোটেল নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থানকালে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ সময় রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর তিনি গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হন যাতে হত্যার কোনো আলামত তার শরীরে দেখা না যায়। তিনি ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও সঙ্গে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় দরজার বাইরে থেকে তিনি রুমের তালা বন্ধ করে দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে রেজা আরও জানায়, হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে মালিবাগে তার বাসায় যায়। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষত স্থান সেলাই করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করেন। এছাড়াও তিনি কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেন সেজন্য একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও করেন। এরমধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয় রেজা। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন