নয়াপল্টনে ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষ, মজনুসহ আটক ২৫

ঢাকা- রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে রাত ৯টার পর এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশ এই আক্রমণ চালিয়েছে। বিএনপিকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় সেভাবেই পুলিশকে সাজানো হয়েছে। এ হামলা পরিকল্পিত এবং আওয়ামী সরকারের চিরচেনা রূপ। বাংলাদেশ যে এখন একটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, সেটি বোঝাতেই কিছুদিন পরপর এ ধরনের হামলা চালানো হয়। তবে এভাবে আর বেশি দিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

ঘটনার পর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম এ বিষয়ে বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এ সম্পর্কে বলেন, রাজধানীর রূপনগর থানায় ছাত্রদলের কর্মী সভায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও পুলিশ হামলা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিংগেল মোড়ের কাছে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন আটক করে নিয়ে যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামান্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর রফিকুল আলম মজনুসহ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। এসময় পুলিশ কার্যালয়ের সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই আটক করে নিয়ে যায়।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ সাংবাদিকদের জানান, বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ইতিমধ্যে রফিকুল আলম মজনুসহ ১০/১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন বলেন, ছাত্রদল কর্মীরা আকস্মিকভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় ৮/১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *