যাদের চেষ্টায় ভণ্ডুল হলো মুরাদের কানাডা প্রবেশ

নজর২৪ ডেস্ক- সম্প্রতি নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জেরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসান কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়েও কানাডায় প্রবেশ করতে পারেননি।

 

স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরন্টো পিয়ারসন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা। এর পর তাকে দুবাইয়ের একটি বিমানে তুলে দেয়া হয়।

 

অথচ গত সেপ্টেম্বরেই কানাডায় গিয়েছিলেন মুরাদ হাসান। তাই প্রশ্ন উঠেছে তাকে কেন আটকে দিলো বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি? কার বা কাদের দাবিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা বিমানবন্দর প্রশাসন?

 

জানা গেছে, কানাডায় যাতে মুরাদকে ঢুকতে দেয়া না হয়, সে জন্য প্রবাসীদের একটি অংশ সক্রিয় ছিল আগে থেকেই। প্রবাসীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন এ নিয়ে কাজ করছিল। এদের মধ্যে অন্যতম ‘লুটেরা বিরোধী মঞ্চ’।

 

সংগঠনটি সংগঠক ও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির গবেষক মঞ্জুরে খোদা টরিক এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কানাডায় সব কিছুই খুব নিয়মতান্ত্রিক। অনিয়মের দেখা মিলবে না এ দেশে। মুরাদ হাসানের কানাডা আসার খবরে আমরা এখানে কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেইল করি। বাংলাদেশে মুরাদ হাসানের অপকীর্তির কথা বিস্তারিত লিখি। এর সাথে বিভিন্ন সংবাদ ও মুরাদের ভিডিও ক্লিপ জুড়ে দিই। শুনেছি আমাদের মতো এমন ১৭১ ইমেইল নাকি গেছে এজেন্সিতে। এখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশী সাংবাদিক এ তথ্য জানিয়েছে আমাদের। আমাদের বিশ্বাস, এসব ইমেইলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে কানাডা প্রশাসন। মুরাদকে কানাডায় ঢুকতে না দেয়ার ব্যাপারে এটি কাজে দিয়েছে।’

 

তবে ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে ভিন্নকথা। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে যেসব কাগজপত্র থাকা প্রয়োজন ছিল, তা না থাকায় মুরাদ হাসানকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়।

 

এদিকে মুরাদকে টরেন্টো বিমানবন্দরে আটকে দেয়ার বিষয়ে কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এখনো কিছুই জানায়নি বলে তথ্য দিয়েছেন কানাডায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার খলীলুর রহমান।

 

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। যদি বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে কানাডায় প্রবেশে তারা বাধা দেয়, এমপি হোক বা সাধারণ নাগরিক হোক অর্থাৎ যে কোনো ব্যাপারে কোনো ঝামেলা হলে তারা জানায় আমাদের। কিন্তু মুরাদ হাসানের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি তারা।’

 

জানা যায়, মুরাদ হাসান কানাডায় প্রবেশ করতে না পেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে শনিবার গণমাধ্যমকে একটি সূত্র নিশ্চিত করে, ভিসা না থাকায় দুবাইয়ে ইমিগ্রেশনও আটকে দেয় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে।

 

দুবাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর শুরুতে এমিরেটসের ইকে ০৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার প্রস্তুতি নেন মুরাদ হাসান। এর টিকিটও তিনি কেনেন। ওই ফ্লাইটে এলে রোববার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা ছিল।

 

তবে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিবর্তন করে ইকে ৫৮৬ ফ্লাইটে আজ বিকালে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেন মুরাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *