নজর২৪, ঢাকা- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জনপ্রিয় তারকা তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক এ মামলা করেন।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাছরিন এবং দুই নম্বর আসামি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলকে। প্রতারণা ও অর্থ আত্নসাৎ মামলায় বর্তমানে এ দুজন কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন- ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ক্যাটাগরি হেড মোহাম্মদ আবু তাহের সাদ্দাম, এক্সিকিউটিভ অপারেশন (বাইক) মো. আবু তায়েশ।
মামলার বাদী সাদ স্যাম রহমান বলেন, আমি ইভ্যালিতে বাইক অর্ডার করেছিলাম। দীর্ঘ চেষ্টায়ও বাইক পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। তিনি বলেন, তাহসানের মত একজন মানুষকে ট্রাস্ট করেছি। এর বাইরে যারা আছেন তারাও ইভ্যালির গুনগান গেয়েছেন। তাদের দেখে আশান্বিত হয়েছিলাম। ভেবেছি এরা থাকলে কোম্পানি প্রতারণা করবেনা। তাই তিন লাখ ১৮ হাজার টাকার বাইক অর্ডার করেছি। সাতমাস আগে অর্ডার করেছি, এখন পর্যন্ত পাইনি। কতদিন এভাবে বাইকের জন্য অপেক্ষা করবো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তারকা তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ও তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকাদের কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব হাসান বলেন, মামলায় ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেল গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে গায়ক-অভিনেতা তাহসান খান শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আর রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ‘ইভ্যালি’র ‘ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল’ শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।
তবে ইভ্যালির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গত জুনে বড় অঙ্কের বেতনে ইভ্যালির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া শবনম ফারিয়ার বেতনের অধিকাংশ বকেয়া।
অন্যদিকে, ১০ মার্চ ইভ্যালির ‘ফেইস অব ইভ্যালি’ (শুভেচ্ছাদূত) ঘোষণা করা হয় তাহসানকে। তিনি শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পরের মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও গ্রাহকের পণ্য সময় মতো পৌঁছে না দিতে পারায় তোপের মুখে পড়ে। সবদিক বিবেচনা করে মে মাসের মাঝামাঝি সময় ইভ্যালি থেকে স্বেচ্ছায় সরে যান তাহসান। একই পথে হাটেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।
