মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: বিপ্লবী রবি নিয়োগী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের অধিকার রক্ষায় টঙ্গ আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন লড়াকু সৈনিক। শত নির্যাতন-নিপীড়ন, কারাভোগ করেও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি কখনো পিছপা হননি। তিনি ছিলেন আদর্শনিষ্ঠ, সৎ, নির্লোভ, নির্ভীক, দেশপ্রেমিক। আজীবন নিষ্ঠ ছিলেন মানুষের কল্যাণ চিন্তায়।
শেরপুর শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার (পুরাতন গরুহাটি) জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ১১২তম জন্মবার্ষিকী শুক্রবার (বাংলা পঞ্জিকার বর্ষগণনা হিসাব মতে ১৩১৬ সালের ১৬ বৈশাখ মোতাবেক ৩০ এপ্রিল)। স্কুল জীবনেই তিনি গুপ্ত সমিতি যুগান্তরে দীক্ষা নিয়ে বিপ্লববাদী ধারায় সক্রিয় হয়েছিলেন। পরে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন।
আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিপ্লবী রবি নিয়োগী আন্দামান সেলুলার জেল সহ বিভিন্ন মেয়াদে ৩৪টি বছর কারাভোগ করেছেন। ত্যাগী নেতা রবি নিয়োগী স্বাধীন বাংলাদেশে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেছিলেন। ব্রিটিশদের জুড়ে দেওয়া ’ডাবল স্টারে’র কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেও জিয়া ও এরশাদ সরকারের আমলে তিনি কারাভোগ করেন।
বিপ্লবী রবি নিযোগী কলম সৈনিক হিসেবেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠ ছিলেন। তিনি বিনা বেতনে সাপ্তাহিক একতা ও দৈনিক সংবাদের শেরপুর জেলা বার্তা পরিবেশক হিসেবে আজীবন কাজ করেছেন।
তিনি সর্বদাই একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন। বিপ্লবী রবি নিয়োগী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালের ১০ মে সূদীর্ঘ কর্মময় জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও যুগ-যুগান্তরের মানবমুক্তির লড়াইয়ের ধারায় লড়াকু মানুষের প্রেরণা হয়ে রয়েছেন বিপ্লবী রবি নিয়োগী।
বিপ্লবী রবি নিয়োগীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় শহরের নিউমাকের্টে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও জেলা সিপিবির সম্পাদক সোলেমানের নেতৃত্বে কমরেড রবি নিয়োগীর বাড়িতে ফুল দিয়ে কর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।





