ঢাকায় নোরা ফাতেহির শো’র টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়

একটি তথ্যচিত্রের শুটিংয়ের অংশ নিতে বলিউড তারকা নোরা ফতেহিকে ঢাকায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এছাড়া অন্যকোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনে কোন অনুমতি নেই তার।

ইতমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে তথ্যচিত্রের শুটিং ছাড়া নোরা কোনো কাজেই অংশ নিতে পারবেন না।

কিন্তু অনুমতি প্রদানের সাতদিনের মাথায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ‘গ্লোবাল অ্যাচিভারস অ্যাওয়ার্ড’ যে প্রতিষ্ঠানটি নোরাকে কেবল তথ্যচিত্রের শুটিংয়ের করতে অনুমতি নিয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান নোরাকে নিয়ে আয়োজনের টিক্রেট বিক্রি করছে। অথচ অনুষ্ঠান করার ও এভাবে টিকিট বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও তথ্যমন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নোরার অনুষ্ঠানের জন্য তিন ধরনের টিকিটমূল্য ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপি ১৫ হাজার টাকা, গোল্ড ১০ হাজার ও সিলভার ৫ হাজার টাকা।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নোরাকে ঢাকায় এনে অনুষ্ঠান করার ও তার টিকিট বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জোরালোভাবে জানিয়েছেন।

অথচ ‘গ্লোবাল অ্যাচিভারস অ্যাওয়ার্ড’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ইশরাত জাহানের বক্তব্য, তথ্যমন্ত্রনালয় তাকে টিকিট বিক্রির অনুমতি দিয়েছে।

এর আগে নোরা ফাতেহিকে ঢাকায় আসার অনুমতি দিয়ে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় তথ্যচিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিতে ১৮ নভেম্বর নোরা ফতেহি ঢাকায় অবস্থান করতে পারবেন। শর্তে আরও বলা হয়, শুটিংয়ের বাইরে নোরা ফতেহি আর কোনো কাজে বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি ওই তথ্যচিত্র নির্মাণের পর ছাড়পত্র নিতে হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শর্ত ভঙ্গ করা হলে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে।

এসব জটিলতার মধ্যেই নোরা ফতেহির কাছ থেকে আয়কর আদায় করতে চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সোমবার একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে নোরা ফতেহি সম্মানী বাবদ যত অর্থ পাবেন, তার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

বিদেশি শিল্পী হিসেবে ঢাকায় এসে কাজ করে পারিশ্রমিক বা সম্মানি নিলে আইন অনুযায়ী তাকে উৎসে কর পরিশোধ করতে হবে। তার এই কর প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত হতে বলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উইমেন লিডারশিপ করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ইসরাত জাহান মারিয়া বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এনবিআরকে ট্যাক্স পরিশোধ করেছি। ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ দাখিল করেই আমরা অনুমতি পেয়েছি।

এনবিআর এর চিঠির ব্যাপারে তিনি বলেন, কোথাও যোগাযোগের ঘাটতি থেকে হয়ত এই চিঠি ইস্যু হয়েছে। এনবিআর এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আশা করছি সমস্যাটির সমাধান হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *