বিনয়ের সঙ্গে আমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছি: হানিফ সংকেত

এখন মিডিয়ার বাহুল্যের যুগ। হাতে হাতে গণমাধ্যম। দর্শক চোখের বিরাম নেই। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারাবিশ্বের কন্টেন্ট নিয়ে এখন আমরা নিজেদের কন্টেন্টকে বিচার করি। যথারীতি কেউ কেউ বলেছিলেন, ইত্যাদি কী টিকবে?

অথচ সময়ের সাথে সাথে ইত্যাদির গুণগত মান বেড়েছে। বেড়েছে নান্দনিকতা। আর প্রযুক্তির সময়োপযোগী সংযোজন। দর্শককে না ঠকিয়ে এর রসদ জোগানোটা কঠিন এক অধ্যাবশায়ের কাজ। ইত্যাদি তা করেছে। গত কয়েক বছর ধরে ইত্যাদি ডিজিটাল প্লাটফর্মে পোস্ট হলেই তা ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে ১ নম্বরে থাকে।

ইত্যাদির প্রাণপুরুষ দেশবরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতকে এর রহস্যের কথা জানতে চাইলে বলেন, এখানে গোপনীয় কিছু নেই, দর্শকরাই সব জানেন। বাংলাদেশে দুই ধরনের অনুষ্ঠান আছে- একটা হচ্ছে বাণিজ্যিক অন্যটি হচ্ছে দায়ভিত্তিক। এই দায় দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি, সংস্কৃতির প্রতি। সেই দায়বোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে যে অনুষ্ঠান হয় সেখানে ব্যবসার বিষয়টি মুখ্য থাকে না। বরং অনুষ্ঠানটিই হয় মুখ্য। আর বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানগুলোর গর্জন বেশি হলেও অর্জন কম। অনেকটা ‘ওয়ান টাইম ইউজ’ সামগ্রীর মতো। ইত্যাদি বাণিজ্যিক নয়, দায়বোধ থেকে করি। ইত্যাদির একটা আর্কাইভ ভ্যালু রয়েছে। নির্ভুল বলে অনেকে এখান থেকে তথ্যও সংগ্রহ করেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে যখন শুটিং করেন তখন হাজার হাজার দর্শক কীভাবে আসে? হানিফ সংকেত বলেন, প্রাণের টানে। ইত্যাদির প্রাণই তো সাধারণ মানুষ। আর সাধারণ মানুষ নিয়ে অনুষ্ঠানটি করি বলেই শুটিং দেখার জন্য কেউ বাড়ির ছাদে, টিনের চালে, গাছের ডালে, পানিতে নেমেও তা দেখেন। আমাদের অনুষ্ঠানে দর্শকের শ্রেণিবিন্যাস থাকে না। সবাইকে একই ধরনের চেয়ারে বসতে হয়। নেই কোনো বিশেষ অতিথি, প্রধান অতিথি। আমাদের কাছে সবাই বিশেষ অতিথি। যে কারণে ইত্যাদিকে বলা হয় গণমানুষের অনুষ্ঠান।

আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, চ্যানেল, সংগঠন পুরস্কার দিচ্ছে, এ নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?, তিনি বলেন, এগুলোর তেমন বিশেষ কোনো মূল্য নেই আমার কাছে। আমি এগুলোতে কখনো যাই না। কেউ দিতে চাইলে বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি। দেশের একটি প্রথম শ্রেণির জাতীয় দৈনিকের দেওয়া পুরস্কারই পরপর আটবার নেওয়ার পর বিনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি, যাতে নতুনদের দেয়। আমার কাছে দর্শকের ভালোবাসাই বড় পুরস্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *