মাস্তান পার্টি এসে চলচ্চিত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে: বাপ্পারাজ

নব্বইয়ের দশকের সুপারহিট চিত্র নায়ক বাপ্পারাজ। ১৯৮৬ সালে বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। প্রয়াত কিংবদন্তি নায়ক রাজ রাজ্জাকের ছেলে হিসেবে নয়, বরং অভিনয় প্রতিভা দিয়েই চলচ্চিত্রে স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছেন তিনি। ত্রিভুজ প্রেমের ছবিতে ব্যর্থ প্রেমিকের চরিত্রে বাপ্পারাজ অদ্বিতীয়।

তবে বর্তমানে এই নায়ককে খুব একটা অভিনয়ে দেখা যায় না। তাকে শেষ দেখা গেছে ২০১৮ সালের জুনে মুক্তি পাওয়া সিয়াম-পূজা জুটির ‘পোড়ামন টু’ ছবিতে। এরপর কোন ছবিতে অভিনয় করেননি। না করার কারণ হিসেবে জানান ভাল ছবির অফার পাননি বলে অভিনয়ে অনিয়মিত।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বাপ্পারাজ।

সেখানে তিনি বলেন, আমি যে ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই, সে রকম চরিত্র আমাদের সিনেমার গল্পে তৈরি হচ্ছে না বলেই কাজ করা হচ্ছে না। তাছাড়া আমাদের নির্মাতারা একান্নবর্তীভাবে কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ শিল্পীদের কথা ভেবে এখন আর গল্প তৈরি করেন না। যাকে দরকার তাকে পেলেই হলো, বাকি শিল্পীদের নিয়ে ভাবার সময় এখন আর নেই তাদের কাছে। সে জন্যই হয়তো আমার এখন আর নিয়মিত কাজ করা হয়ে ওঠে না।

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বাপ্পারাজ বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র বর্তমানে যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। ছবির গুণগতমান, হলের পরিবেশ একটা মুখ্য বিষয় হলেও আমার মনে হয় আমাদের চলচ্চিত্র নিজেদের সৃষ্টি করা গৎবাঁধা নিয়মের মধ্যেই বন্দি। শুরু থেকে যেভাবে চলছে, এখনো ঠিক তাই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে পারছি না। আবার অনেক ছবিতে প্রযুক্তির অপারগ ব্যবহার দর্শক মহলে হাসির খোরাক বানিয়ে দিচ্ছে। খুবই খারাপ অবস্থা।

‘শিল্পীর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বিনয়, সেই বিনয়টাই কমে গেছে। শিল্পীরা কিন্তু মাস্তান হন না, শিল্পীরা হন বিনয়ী। মাস্তান পার্টি এসে চলচ্চিত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে। বড় বড় চাল ব্যবসায়ী, বালু ব্যবসায়ী এসে গেছে দলবল নিয়ে চলচ্চিত্রে। কে কাকে কয়টা মামলা দেবে এসবই চলছে। মামলা করে যদি শিল্পীদের সমস্যা সমাধান করতে হয়, তাহলে সমিতি কেন? সবাইকে দেখি এখন কথায় কথায় থানা পুলিশ, আইন আদালত করতে। এফডিসির ভিতরে কিছু হলে আমরাই তো সমাধান করতে পারি। এসবের জন্য থানা পুলিশ, আদালতের দরকার হয় নাকি?’

কোনো অপ্রাপ্তি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। আল্লাহর রহমতে আমার জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি নেই। কারণ আমার চলাফেরা খুবই সাধারণ। চাহিদা খুবই স্বল্প। টাকা-ধন-সম্পত্তির কোনো ধরনের লোভ নেই। একজন মানুষ তার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে আর কোনো অপ্রাপ্তি থাকার কথা নয়। আমার বেলায়ও ঠিক তাই। আমার আমিতে আমি তৃপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *