অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের লিপে মাহমুদুন্নবীর গাওয়া ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’ গানটির কথা মনে আছে? এখনো দারুণ জনপ্রিয় গানটি। এ সিনেমার নায়িকা ছিলেন ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম।
বাংলার পাশাপাশি উর্দু ও পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রেও রয়েছে তার সুনিপুণ অভিনয়ের ছাপ। নন্দিত এ অভিনেত্রী জীবনের ৭৬ বসন্ত পেরিয়ে ৭৭-এ পা দিলেন। তার আসল নাম ঝর্ণা বসাক হলেও তিনি চলচ্চিত্রে শবনম নামেই পরিচিত। গতকাল ১৭ আগস্ট ছিল এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
জন্মদিন উপলক্ষে এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা হয় শবনমের। তিনি বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এইদিক থেকে অতৃপ্তি নেই।’
এফডিসি প্রসঙ্গ শবনম বলেন, এফডিসিতে দীর্ঘদিন যাই না। কয়েক মিনিটের জন্য গিয়েছিলাম বেশ আগে। ওই দিক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর মনে হলো একটু ভেতরে যাই। কত চেনা জায়গা! কত প্রিয় জায়গা! সেই চেনা এফডিসি বদলে গেছে। আগের মতো শুটিংয়ের ব্যস্ততা নেই। পুরনো মানুষদের অনেকেই বেঁচে নেই। আমার ভেতরটা কেমন করে উঠে। একা একা কেঁদেছিলাম।
এসময় তিনি বলেন, আমি কখনো তারকা হয়ে বাঁচতে চাইনি, সাধারণ বাঙালি হয়ে বাঁচতে চেয়েছি। সাধারণ মানুষ হয়ে বাঁচতে চেয়েছি। এজন্য কখনও অন্যকে দিয়ে বাজার করাই না। সব বাজার নিজে করি। আমি সিনেমায় অভিনয় করি বলে মাটিতে পা ফেলব না, তা কেন হবে?
শবনম বলেন, সারাজীবন মনে করেছি আমি বাঙালি। আমার বড় পরিচয় আমি একজন বাঙালি। পাকিস্তানে অসংখ্য সিনেমা করেছি। এটুকু বলতে পারি, পাকিস্তানে ৪ শিফটে শুটিং করেছি। একই দিনে একাধিক সিনেমার শুটিং করেছি। একটিবারের জন্যও কোনো সিনেমায় বাঙালি ঘরানার বাইরে পোশাক পরিনি।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রীকে সবশেষ কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমাতে মান্নার মায়ের চরিত্রে দেখা গেছে। এরপর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।
মাঝে অনেক সিনেমাতে অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছেন শবনম। কিন্তু কোনো সিনেমার গল্পই মৌলিক নয়। তাই কাজ করতে আগ্রহ পাননি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তিনি।
