শুটিংয়ে ১০টা করে ডিম খেয়েছি: নাজিফা তুষি

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত এই সিনেমা এখন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল যাচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে অগ্রিম টিকিটও। সিনেমাটির কলাকুশলীরা সিনেমাটির প্রথম থেকেই প্রচারণায় দেখে মিলেছে। এর ধারাবাহিকতায় সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা শহরগুলোর সিনেমা হলগুলোতে যাচ্ছেন।

উত্তাল সমুদ্রের বুকে ‘হাওয়া’ নির্মাণ মোটেই সহজ ছিল না। এই সিনেমা সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল ‘হাওয়া’। প্রচারণার উদ্দেশ্যে সোমবার (৯ আগস্ট) অভিনেত্রী নাজিফা তুশিসহ ‘সাদা সাদা কালা কালা’র গায়ক ও অভিনেতা শিবলীসহ পুরো হাওয়া সিনেমার টিম গিয়েছিল ময়মনসিংহ ছায়াবাণী সিনেমা হলে। সেখানে গিয়ে তারা গান গেয়েছেন এবং দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা দেখেছেন। তারপর তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

‘হাওয়া’ সিনেমার অভিনেত্রী নাজিফা তুষি বলেন, “আমি এই সিনেমাটিতে অভিনয় করতে পেরে আমি খুব লাকি। যারা সিনেমা হলে আসেনা তারা যে হলমুখি হয়েছে এইটা খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে আমাদের সিনেমা দিয়ে যে হলে আসা শুরু করেছে এটা খুব ভালো লাগছে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে নানা বিষয় তিনি সাংবাদকিদের বলেন, “আসলে হাওয়া সিনেমার শুটিংয়ে আসলে পুরোটাই মজা ছিল। যদি শেয়ার করতেই হয় তাহলে মজার একটা ব্যাপার শেয়ার করা যায়। শুটিংয়ে আমি ১০টা করে ডিম খেয়েছি। আর এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি হয়েছে টিমের মধ্যে।”

অভিনেতা সুমন আনোয়ার বলেন, ‘সিনেমা রিলিজের পর থেকে আমরা যেসব হলে ভিজিট করেছি তার মধ্যে সিনেপ্লেক্স ছাড়া অন্যগুলোর অবস্থা খুবই করুন। সেখানে এক দর্শকের জন্য দুই ঘণ্টাব্যাপী সিনেমা উপভোগ করা খুবই কষ্টকর। স্পেশালি ‘হাওয়া’ সিনেমাটি লাইট, সাউন্ড সব কিছু মিলিয়ে এটার কালার, টোন, গল্প, আবহ সংগীত উপভোগ করার জন্য সিনেপ্লেক্স এপ্রোপ্রিয়েট জায়গা। তার পরও আমাদের বাংলাদেশের সব জায়গায় সিনেপ্লেক্স নেই। তবুও যদি এ রকম সিনেমা নির্মাণ হয়, তাহলে হলে দর্শক আসবেই।’

হলে এসেই ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গান গেয়ে দর্শক মাতান কণ্ঠশিল্পী ও অভিনয়শিল্পী এরফান মৃধা শিবলু। এ সময় তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সুর ধরেন নাজিফা তুষি, সুমন আনোয়ারসহ হলভর্তি দর্শক।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানেই যাই সেখানেই মানুষের মুখে মুখে এ গান শুনতে পাই। এ গানটা খুব ভালো করে কম্পোজ করেছে মিঠুন চাকড়া ও ইমন চৌধুরী। আরেকটি সিনেমার কাজ আমরা শুরু করব৷ ওইটারও ইতিমধ্যে প্রি-প্রোডাকশন শুরু হয়েছে। আশা করছি, হাওয়া চলচ্চিত্র যেমন মানুষের ভালো লেগেছে, পরবর্তী সিনেমাও ভালো লাগবে।’

‘হাওয়া’ সিনেমা দেখার পর সাদেক মিয়া নামের এক দর্শক বলেন, ‘সবার অভিনয়ই ভালো লেগেছে। তবে চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, নাজিফা তুষির অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। সাদা সাদা কালা কালা গানে আকৃষ্ট হয়েই সিনেমা হলে এসেছিলাম।’

লাইলি আক্তার নামের আরেক দর্শক বলেন, ‘আমি এই প্রথম হলে সিনেমা দেখতে এসেছি। সিনেমা ভালো হয়েছে। এ রকম মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ হলে আমাদের মতো অন্য দর্শকও হলে ফিরবে।’

হলের ম্যানেজার মো. শহর উদ্দিন বলেন, ‘গত ২৯ তারিখ থেকে প্রতিদিন পাঁচটি করে শো চলছে। ভেবেছিলাম, ধীরে ধীরে হয়তো দর্শক কমে আসবে, কিন্তু না, এখন দর্শক আরও বাড়ছে। প্রতিদিন হাউসফুল যাচ্ছে সিনেমাটি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *