চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদটির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। কিন্তু এর মধ্যেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ।
সম্প্রতি শিল্পী সমিতির মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নতুন কয়েকজন অভিনয় শিল্পীকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। পরিচয়পত্রে সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন নিপুণ আক্তার।
যা দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে নিপুণ আবার কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মামলার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। যা ইচ্ছা তা–ই করতে পারেন না নিপুণ। আইন মানা একজন শিল্পীর নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘এবার আইনকে তোয়াক্কা না করে চরম অন্যায় করেছেন নিপুণ। আর এই অন্যায়কে সমর্থন করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব। তিনি নিজেও জানেন পদটি স্থিতিশীল থাকবে।
শুধু তা–ই নয়, এর আগে তারা যে মিটিং করেছেন, সেখানে আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। যাঁরা নতুন সদস্য হিসেবে অন্তভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেটা নিয়েও মামলা চলমান। এভাবে শিল্পীদের অন্যায় মেনে মেনে নেওয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে জায়েদ খান জানান, ‘অবশ্যই আমি আইনি পদক্ষেপ নেব। কারণ, নিপুণ আইনের তোয়াক্কা না করে সমিতির সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আমি আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই পদক্ষেপ নেব।’
আদালতের চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগেই শিল্পীদের পরিচয়পত্রে কেন তার স্বাক্ষর, এ সম্পর্কে জানতে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এরপর কথা হয় শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্রনায়িকা শাহনূরের সঙ্গে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, যারা চাঁদা পরিশোধ করেছেন, তাদেরকে পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে।’ সেখানে নিপুণের স্বাক্ষর কেন প্রশ্ন করলে শাহনূর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সভাপতি কাঞ্চন ভাই-ই ভালো বলতে পারবেন।’
পরে যোগাযোগ করা হয় সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে। শিল্পীদের পরিচয়পত্রে কেন নিপুণের স্বাক্ষর? এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘হ্যাঁ, নিপুণ স্বাক্ষর করেছে।’ কিন্তু উচ্চ আদালতে তো পদটির ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি? কাঞ্চন বলেন, ‘আদালত থেকে তো তাকে নিষেধও করেনি।’
গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন প্রাথমিক ফলাফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ। এর পর থেকে সাধারণ সম্পাদক পদটি নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। বিষয়টি এখন আদালতে আছে। কোনো চূড়ান্ত রায় আসেনি।
