যুক্তরাষ্ট্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন ভাবনা

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন নুরুল আলম আতিক। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন আশনা হাবিব ভাবনা। এবার মিলেছে স্বীকৃতি। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন এ অভিনেত্রী।

কালচারাল এসোসিয়েশন অব বেঙ্গল নর্থ আমেরিকার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হন ভাবনা। তার হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন চিত্রনায়ক ইমন।

চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এটিই ভাবনার প্রথম পুরস্কার। তাই বেশ উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে পুরস্কারের ছবি শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

এক পোস্টে ভাবনা লেখেন, ‘‘নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্সকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র জন্য সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত করার জন্য। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমি জানতামই না কিছু, আমার কলিগ মীর সাব্বির ভাই ও ইমন আমাকে সুদূর লাস ভেগাস থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি ভাবলাম কী হলো? হঠাৎ অভিনন্দন! তারা দু’জনে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ইমন আমার পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন। ’’

অভিনেত্রী লেখেন, ‘‘আমি জীবনে নৃত্যশিল্পী হিসেবে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। তবে চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে এটাই আমার প্রথম পুরস্কার। ‘লাল মোারগের ঝুঁটি’ আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। ‘পদ্ম’ হয়ে পর্দায় এসে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এটাই অনেক বড় বিষয় মানুষের ভালোবাসা। ’’

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমাটির টিমকে ধন্যবাদ দিয়ে ভাবনা লেখেন, ‘আমি যখনই ভেঙে যাই, তখনই আমাকে আল্লাহ একটা উপহার দেন এবং মনে করিয়ে দেন যে, মানুষ আমাকে যতই আঘাত করুক, যতই বাদ দিয়ে দিক, যতই হাসুক, আমি আমার কাজটি সততার সঙ্গে করে যাবো। এই পুরস্কারের জন্য আমি ধন্যবাদ দেবো মাতিয়া বানু শুকুকে যিনি আমাকে অনেক আদর করেন, অনেক স্নেহ করেন এবং অবশ্যই আমার ডিরেক্টর নূরুল আলম আতিককে। লাল মোরগের টিমের সবাই কে লাভ ইউ। ’

১৯৭১ সাল, বাংলাদেশ এক বন্দিশালা। বিহারি-অধ্যুষিত ছোট এক শহর। সেখানে ব্রিটিশদের গড়া বিমানবন্দর সচল করতে সেনাবাহিনী আসে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে জনপদে ঘটে যাওয়া কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’।

২০১৪-১৫ সালে সরকারি অনুদান পেয়েছিল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন নুরুল আলম আতিক। কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল এবং গৌরীপুরের বিভিন্ন জায়গায় এর শুটিং হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *