সিনেমার সংকট কাটাতে দেশের সিনেমা হল মালিকরা এরআগে একাধিকবার ভারতীয় সিনেমা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন এমন উদ্যোগের বিপক্ষে অবস্থান নেয় পরিচালক সমিতিসহ এফডিসির সকল সংগঠন।
তবে ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা’ তৈরী হওয়ায় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি হল মালিকদের পুরনো সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জানালো, ‘দেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা চলুক’।
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান চ্যানেল ভারতীয় সিনেমা আমদানির পক্ষে ইতিবাচক ইচ্ছা পোষণ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে চাচ্ছি ভারতীয় সিনেমা আসুক। সিনেমার সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলো চাচ্ছে ভারতীয় সিনেমা আসুক। সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করে দিতে চাই, নইলে সিনেমা হলে না আসার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাবে দর্শক!
শুধু পরিচালক সমিতি নয়, চলচ্চিত্র পরিবারের সকল সংগঠন চাইছে, ভারতীয় সিনেমা আসুক। একসঙ্গে মিটিং করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে জানান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার পরিচালক সোহান।
“সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আগামী দুই-তিন বছরের জন্য আমাদের দেশে ভারতীয় সিনেমা চালানো হোক। তবে নিয়ম হতে হবে বছরে ১০টির বেশি ভারতীয় সিনেমা যেন আমদানি করা না হয়। ইতোমধ্যে আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়েছি।” -বলেন সোহান।
ভারতীয় সিনেমা আমদানির পক্ষে শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনও। তিনি বলেন, ‘আমরা সিনেমার সংখ্যা বাড়াতে পারিনি। তাই ভারতীয় সিনেমা আমদানির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। একটা সময় বেঁধে দিয়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সিনেমা আমদানির মাধ্যমে যদি বন্ধ সিনেমা হলগুলো খুলতে পারি, তাহলে এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র লাভবান হবে বলে মনে করি।’
‘বেদের মেয়ে জোছনা’র নায়ক আরও বলেন, ‘সরকার সবকিছু করে দেবে না। আমরা যদি এক সুরে কথা বলি, তাহলে সরকার কিছু করবে। সবাইকে এক হতে হবে। সিনেমা হল চালু না রাখলে ব্যবসা হবে না। ব্যবসা না হলে প্রযোজক আরেকটা সিনেমা বানাতে পারবেন না। একটি সিনেমা বানাতে অনেক টাকা লগ্নি করতে হয়। তাই, আমি চাই বেশি বেশি সিনেমা নির্মিত হোক। শিল্পীরা যেন কাজ করতে পারেন।’
এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় সিনেমা আমদানির প্রতিবাদে এফডিসির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। সে সময় তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ছিলেন। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন চিত্রনায়ক অমিত হাসান এবং ওমর সানী। আরও ছিলেন নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। এখন তিনিই ভারতীয় সিনেমা আমদানির পক্ষে।
তারও আগে ২০১৫ সালে দেশে হিন্দি সিনেমা চালানোর প্রতিবাদ করায় শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করেছিল হল মালিকরা। কিং খানের কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে চালানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল তারা। সে সময়ও হল মালিকদের যুক্তি ছিল, দেশীয় সিনেমার টিকেট বিক্রি না হওয়ায় তাদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। এ জন্য তারা হিন্দি সিনেমা চালিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চান।
