২০২১ সালের ১২ মার্চ নায়িকা হিসেবে দীঘির অভিষেক হয়েছিল দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘তুমি আছ তুমি নাই’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। সেদিনই হলে হলে দর্শক মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাতে ছোট্টবেলার দীঘিকে নায়িকা হিসেবে প্রথম দেখেন।
২০২১ সালের মার্চ মাসেই দীঘি প্রথমবার কোনো ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। সুমন ধরের পরিচালনায় দীঘি ‘শেষ চিঠি’ নামের ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। এক বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে একটি প্লাটফরমে দীঘি অভিনীত প্রথম ওয়েব ফিল্ম রিলিজ হয়েছে। এই ওয়েব ফিল্মে দীঘি অভিনয় করেছেন তুলি চরিত্রে। ‘শেষ চিঠি’ মুক্তির পর দীঘি কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
প্রশ্ন: ৫ দিন হয়েছে ‘শেষ চিঠি’ চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দীঘি: আমরা কেউই চিন্তা করিনি এতটা সাড়া পাব। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় মুক্তি পায়। মুক্তির পর রাত ১০টা থেকে দারুণ সব প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। ফেসবুকে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখিও হচ্ছে। আমি অভিভূত, আমি মুগ্ধ।
প্রশ্ন: ‘শেষ চিঠি’তে আপনি তুলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি হয়ে ওঠার পেছনে কে বেশি সহযোগিতা করেছেন?
দীঘি: আমার জন্য চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা ভীষণ কষ্টসাধ্যই ছিল। স্ক্রিনে আমাকে দেখে যাঁরাই এখন যা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন, তার বিন্দুমাত্র ক্রেডিট আমি নিতে চাই না। আমার পরিচালক ও ডিওপিকে এই ক্রেডিট দিতে চাই। কারণ, তারাই আমাকে হাতে–কলমে শিখিয়েছে বলা যায়। কোনো ছাড়ই দেয়নি। একটা শট ১৫ বারও নিয়েছি। একটা দৃশ্যে এমনও হয়েছে, চার ঘণ্টা লেগে গেছে।
শেষ দৃশ্যটা, যা সবাই দেখে বেশি প্রশংসা করছেন, তা মধ্যরাতে শুটিং করা। দৃশ্যটির শুটিং শেষ করতে মধ্যরাত থেকে কখন ভোর হয়ে গেছে, টেরই পাইনি। যতবার মনে হয়েছে, সুন্দরভাবে দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে হবে, ততবার শুটিং করেছি। আমিও কোনো কিছুতে না করিনি। তারা আমার কাছ থেকে এভাবে আদায় না করলে আজ হয়তো এতটা প্রশংসা পেতাম না।
প্রশ্ন: ‘শেষ চিঠি’তে আপনার সহশিল্পী ইয়াশ রোশান। তিনি আপনার সিনিয়র হলেও কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?
দীঘি: ভীষণ রকম সহযোগিতা আমাকে করেছে। কিছু কিছু জায়গায় আমি নার্ভাস হচ্ছিলাম, সেখানেও সে আমাকে সুন্দরভাবে সহযোগিতা করেছে। তা ছাড়া ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটা আমার প্রথম কাজ, এখানে কিছু কৌশল আছে, ইয়াশ আগে থেকেই এই মাধ্যমে কাজ করার কারণে তা জানে। আমাকে সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন: এই যে ১৫ বার শট নেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো রাত থেকে ভোর হয়ে যাচ্ছে—এতে কি বিরক্ত হতেন?
দীঘি: মোটেই না। আমি আরও যত বেশি করে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করেছি। মাঝেমধ্যে এমনও হয়েছে, শট আমার মনঃপূত না হওয়াতে আমি বলেছি, ভাইয়া, এই শটটা আবার নেন। তবে তারা যদি আমাকে ছাড় দিত, তাহলে আমি তুলি হতে পারতাম না।
