যে হারে খরচ বাড়ছে দিন পার করাটাই মুশকিল: রেবেকা

নানা বয়সী চরিত্রে চলচ্চিত্রের পর্দায় উপস্থিত হয়ে একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন রেবেকা রউফ। যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে অনেক চলচ্চিত্রেই নায়িকা হয়ে অভিনয় করেছেন। তবে বর্তমানে মা হিসেবেই প্রতিনিয়ত উপস্থিত হচ্ছেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পর্দায়।

দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি এ অভিনেত্রী আরটিভির প্রযোজনায় নির্মিত ‘প্রেম পুরান’ সিনেমায় অভিনয় করলেন। কেমন আছেন এখন এই অভিনেত্রী?

রেবেকা বলেন, গত রমজান থেকে পায়ের হাড় ভেঙ্গে দীর্ঘদিন ঘরবন্দী ছিলাম। বিষয়টি তেমন কাউকে জানাইনি। ওই সময় কি যে দুর্বিষহ গেছে বোঝাতে পারবো না। বিষয়টি একজন পেশাদার শিল্পীর জন্য খুবই কষ্টদায়ক। একে তো রোজার অতিরিক্ত খরচ, ঈদের কেনাকাটা! এখন তো আর আগের মতো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। যা কাজ হচ্ছে কোনোরকম পারিশ্রমিক পেয়ে দিন পার করাটাই মুশকিল। যে হারে খরচ বাড়ছে সে অনুপাতে আমাদের পারিশ্রমিকের অংকটা বাড়েনি।

সিনেমা বা নাটকে মামা-খালার চরিত্র আগের মত তৈরি হচ্ছে না কেন? এ অভিনেত্রী অনেকটা অভিমানের সুরে বললেন, সবকিছুতেই প্যাকেজ সিস্টেম চালু হয়েছে। শুধু নায়ক নায়িকার জন্য পুরো বাজেট থাকে। চরিত্রাভিনেতাদের জন্য নামেমাত্র পারিশ্রমিক থাকে। নাটকেও মা-বাবার চরিত্র গৌণ করা হচ্ছে যা সত্যি বেদনাদায়ক।

ছোটপর্দায় আপনার ব্যস্ততা কেমন? রেবেকার উত্তর- বড় পর্দা থেকে ছোটপর্দায় আমার ব্যস্ততা বেশি। এসএটিভিতে আমার ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে একটি। ধারাবাহিক ও সিঙ্গেল নাটক করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। আজকাল তো পাঠ গাইলাম, পারিশ্রমিক নিলাম তারপর বাসায় চলে এলাম। কবে কোন চ্যানেলে প্রচার হবে কেউ আর খবর রাখতে চায় না। আগে যেমন শুটিং ইউনিটে পারিবারিক আমেজ থাকতো আজকাল নেই বললেই চলে। আগে তো শুধু আমরা অভিনয় করতাম না, নিজ নিজ পোশাকের কনটিনিউটিও মনে রাখতাম। সবকিছু উধাও হয়ে গেল। সবাই শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।

আপনার ছেলে এখন সিনেমার নায়ক। মা হিসেবে কেমন লাগলো বিষয়টা। এ অভিনেত্রী বলেন, মা-বাবার অভিনয় পেশাকে সন্তান গ্রহণ করেছে এতে আমি অনেক আনন্দিত। এর জন্য আমি শাপলা মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমার ছেলেকে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। সিনেমাটির নাম ‘প্রেমের কবিতা’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *