বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। এখনও চেয়ারে বসা নিয়ে চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা নিপুন আক্তারের আইনি লড়াই চলছে।
এদিকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সদস্যদের কিছু অভিযোগ প্রসঙ্গে একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে সম্প্রতি কথা বলেছেন সমিতির সভাপতি বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।
তিনি বলেছেন, আগে যারা সমিতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। যে অভিযোগগুলো শিল্পীরা করেছেন, এটি কী শিল্পী সমিতির কাজ? কারো সমস্যা থাকলে তারা সমিতিতে এসে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা বলবে। তার সমস্যা তাকেই এসে বলতে হবে। আমরা কী ৫শ শিল্পীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেব নাকি। এটা সম্ভব না। এ রকম সিস্টেমও নেই।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শিল্পী সমিতি কেন উপহার দেবে? আমি নতুন নই, এর আগেও সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সে সময় তো আমি এ ধরনের নিয়ম দেখিনি। এগুলো তারা করেছে (জায়েদ-মিশা) শুধুই ভোটের কারণে। শিল্পী সমিতি শিল্পীদের সম্মানের জায়গা। সেই জায়গাটি নষ্ট করে ফেলেছে। এ ধরনের অনিয়ম, সম্মানহানিকর বিষয় অন্তত আমি করতে দেব না।
শিল্পী সমিতির কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা তিনটি মিটিং করেছি। তবে জায়েদ খান ছলনার আশ্রয় নেয়ার কারণে একটি মিটিং বৈধ নয়। কিন্তু নিপুণকে সঙ্গে নিয়ে করা বাকি দুটি মিটিং বৈধ। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। সবাই আমাদের সঙ্গে আছে। যা পূর্বে ছিল না। উভয়ই একে অন্যের সমিতি এড়িয়ে চলত। কিন্তু সেসব এখন আর নেই। শিগগিরই তৃতীয় মিটিংয়ে অংশ নিয়ে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেও গত তিন মাসেও সমিতির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত এই নায়ক। এ কারণে সমিতির স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই অভিনেতা।
গত দুই মিটিংয়ে জায়েদ-মিশা প্যানেলের পাস করা অনেকেরই মিটিংয়ে অংশ না নেয়ার কথা জানা গেছে। তৃতীয় মিটিংয়েও অংশ না নিলে সে ব্যাপারে সমিতির অবস্থান কী থাকবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্য প্যানেল থেকে যারা পাস করেছেন তারা কেন আসেননি আমি বুঝতে পারছি না। তারা কেন একটি পোস্ট কেন্দ্রিক? যেখানে ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি সেখানে তারা আসতে পারে, তাদের মতামত দিতে পারে। যারা পাস করেছেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।
প্রশ্ন রেখে অভিনেতা বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নেতৃত্ব দিতে যারা দাঁড়িয়েছে ও পাস করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এখন যদি তারা (নির্বাচিত সদস্যরা) না আসেন, কাজ না করেন তাহলে দাঁড়ালেন কেন? সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে একটা সমাধান আসবে সেটার জন্য বসে থাকার কী আছে? কাজ হচ্ছে না এই যে, সময় চলে যাচ্ছে এটা তো ঠিক হচ্ছে না।
নিয়ম অনুযায়ী তিন মিটিংয়ে কেউ অংশ না নিলে তার সদস্যপদ থাকে না। তারপরও কিছু শর্ত থাকে, কিছু ভদ্রতার বিষয় থাকে। পরবর্তী মিটিংয়ে না আসলে হয়ত তাদের চিঠি দেয়া হবে। উত্তর না দিলে কিংবা ব্যাখা নিয়ে চতুর্থ মিটিংয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার উপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
