কলকাতায় নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

‘বাংলাদেশের নায়করাজ হলেন রাজ্জাক। কিন্তু কলকাতায় এসে সেই নায়করাজ রাজ্জাকের নামে প্রবর্তিত সম্মাননা নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে তার নামে কোনো পুরস্কার চালু করা গেল না।’

কলকাতায় ‘নায়করাজ রাজ্জাক আজীবন সম্মাননা’ গ্রহণ করার আগে সাংবাদিকদের কাছে এভাবে নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেন নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সাড়া জাগানো নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

শনিবার (২১ মে) কলকাতার একটি পাঁচ-তারকা হোটেলে সাড়ম্বর এক আয়োজনের মধ্যদিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতে আজীবন এই সম্মাননার স্মরক তুলে দেওয়া হয়।

এদিন একই সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষসহ আরও বেশ কয়েকজনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন শিরোনামে সম্মাননা।

শনিবার রাতে ভারতের বেঙ্গল ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন চেম্বার অ্যান্ড কর্মাসের ১৮তম অ্যায়ার্ডের এই আয়োজনে দুই বাংলার তারার মেলা বসেছিল।

বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের পর ‘মহানায়কের’ মুকুট উঠে নায়করাজ রাজ্জাকের মাথায়। ২০১৭ সালে এই মহানায়কের মৃত্যুর পরের বছরই তাকে শ্রদ্ধায় ভারতের ‘বেঙ্গল ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন চেম্বার অ্যান্ড কর্মাস’ মহানায়ক রাজ রাজ্জানের নামে আজীবন সম্মাননা চালু করে।

আর এই সম্মাননার তৃতীয় বছরের স্বীকৃতি পেয়ে তাই আবেগাপ্লুত বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। কলকাতা একটি পাঁচ-তারকা হোটেলে এদিনের আয়োজনের যেন মধ্যমণি ছিলেন এই অভিনেতা। মঞ্চে তাকে স্বাগত জানান প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ। এ সময় তার পাশে ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তপন রায়। নায়করাজ রাজ্জাকের নামাঙ্কিত আজীবন সম্মাননা পেয়ে নিজেই জানান তার অনুভূতির কথা।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের জন্ম হয়েছে কলকাতায়, তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এই সম্মাননা শুরু করেছেন আয়োজকরা। কিন্তু তিনি তো কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ঢাকায়। আমরা ঢাকায় তার নামের কিছু করতে পারিনি। এটা ভেবে আমার কষ্ট হচ্ছে।’

এর আগে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ, পান যথাক্রমে হীরা লাল সেন, দেবকী কুমার বোস আজীবন সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা পেয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানান নিজেদের মতো করে।

পুরস্কার পেয়ে আবেগাপ্লুত হন অভিনেতা মাধবী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিদেশে অনেক সম্মাননা পেয়েছি। তবে নিজেদের দেশের মানুষ যখন সম্মাননা দেন সেই সম্মানটা অনেক বড় মনে হয়।’

অন্যদিকে আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসাবে মঞ্চে উঠেন বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আলমগীর হোসেন। বলেন তার অনুভূতির কথাও।

তবে মঞ্চে উঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলচ্চিত্র আদান-প্রদান জরুরি। বাংলাদেশে আমরা চাই ভারতীয় ছবি চলুক ও একইভাবে ভারতের বাংলাদেশের ছবি চলতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *