গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান দেশ সেরা চিত্রনায়ক শাকিব খান। তারপর সেখানে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তি ও নতুন সিনেমার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ পাঁচ মাস পর গত ২৫ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার কথা ছিলো। কিন্তু দেশে ফেরেননি না এই নায়ক। এবারের ঈদটাও মার্কিন মুলুকেই করেছেন তিনি।
এদিকে ঈদে শাকিবের ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সিনেমা দুটি নিয়ে কথা বলার জন্য বেশ ক’দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি ঢাকাই ছবির ‘কিং খান’কে। অবশেষে সোমবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জনপ্রিয় এ চিত্র তারকার।
দুই সিনেমা প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, কিছু মানুষ হয়তো চেষ্টা করছে ‘গলুই’ আটকিয়ে অন্য সিনেমা এগিয়ে রাখার। গুটি কয়েক মানুষের চেষ্টায় যদি কোনো সিনেমা হিট হতো, তাহলে বলিউডের ‘স্টার কিড’রা সবাই ‘স্টার সুপারস্টার’ হতো। বলিউডের অনেক নামকরা প্রযোজকরা সন্তানদের দিয়ে চেষ্টা করেও স্টার বানাতে পারেননি। তাই জোর করে কিছু করা যায় না। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে যে অবস্থা অন্যদের সিনেমা যদি হিট হয় অবশ্যই এটা ইন্ডাস্ট্রির সবার জন্য মঙ্গলজনক।
মার্কিন মুলুকে থাকলেও ঈদের দুটি সিনেমার সবসময় খোঁজ খবর রেখেছেন বলে জানালেন শাকিব খান। তার ফ্যান পেজটিও দুটি সিনেমার প্রচারণায় ছিল সক্রিয়। শাকিব খান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে খেয়াল করেছি ইয়াং জেনারেশন ভালো ভাবে ‘বিদ্রোহী’ দেখছে। শতাধিক সিনেমা হল পেয়েছে বিধায় বহু মানুষ দেখেছে। ঈদের দিন থেকে হলের সামনে দর্শকের ঢল ছিল।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সুখকর ব্যাপার যেটা অনুভব করছি, দীর্ঘদিন পর মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দলে দলে গিয়ে ‘গলুই’ দেখছে। পরিচ্ছন্ন পারিবারিক গল্প আছে বলে মুক্তির আগে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলাম। ঈদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে পরিবারসহ মানুষকে হলে ফেরাতে পেরেছি। সিনেমা হল বিমুখ এই সময়ে এটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।’
শাকিব খান বলেন, গুটি কয়েক মানুষের জন্য নয়, আমি সিনেমা করি লাখ লাখ মানুষের জন্য। তারা কেউ আমার সিনেমা ফ্রি দেখে না। কষ্টে উপার্জিত টাকার একটি অংশ থেকে সময় ব্যয় করে আমার সিনেমা দেখে। দিনশেষে সিনেমা হিট কিংবা ফ্লপ করায় তারা। যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, সবসময় আমার লাখ লাখ দর্শক দূর-দূরান্তে গিয়ে হলেও আমার সিনেমা দেখেছে। এবারও চেষ্টা ছিল আমার সিনেমা আটকানোর। তার মানে নিশ্চয়ই পরিষ্কার, আমার সিনেমা বেশি এগিয়ে আছে! একজন অভিনেতার ক্যারিয়ার নির্ভর করে দর্শকের উপর। প্রভাব খাটিয়ে মানুষের ভালোবাসা বাদে হয়তো সব পাওয়া যায়।
ঢাকাই ছবির এই সুপারস্টার বলেন, কিছু মানুষের বদ দোয়া আমাকে কখনও কিছু করতে পারেনি। বহু বছর ধরে দেখেছি এরা আসলে স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের বাজে কথায় কান দিতাম, তাহলে হয়তো আরও আগেই থেমে যেতে হতো। দশজন আমার খারাপ চাইলেও কোটি মানুষ আমার জন্য ভালো চায়, আমার জন্য দোয়া করে। তাদের ভালোবাসার শক্তিতে আমি দ্বিগুণ এগিয়ে যাই। সবাইকে খুশী করে চলা পৃথিবীর কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না। সবসময় আমার কাজটা করেছি এবং যতদিন বেঁচে থাকবো করে যাবো।
