এমন থাকলে বিশ্বজয় তো দূরে, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব: শাকিব খান

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরেও ব্রিটিশ আমলের (১৯১৮ সালের) আইন দেখিয়ে বন্ধ করা হয়েছে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’ ছবির প্রদর্শনী। তাও আবার সিনেমাটি সরকারি অনুদান পেয়ে নির্মিত। শুধু তাই নয়, এতে অভিনয় করেছেন দেশের এক নম্বর নায়ক শাকিব খান!

ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি জামালপুর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শন হচ্ছিল। একাডেমিতে ‘বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শিত হবে না’- এই আইনে ‘গলুই’ প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুর্শেদা জামান। অন্য একটি অডিটোরিয়ামে চালাতে গেলে সেখানেও বাধা দিয়েছেন তিনি।

সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের খবরে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই। একদিন পর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা চিত্রনায়ক শাকিব খান। তিনি এ প্রসঙ্গে তার ফেসবুক পাতায় এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে দেশের মানুষকে সিনেমাটি দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শাকিব খান লেখেন, করোনায় গত দুই বছর দেশের চলচ্চিত্র অনেকটাই থমকে ছিল। এবারের ঈদে ভালো মানের চলচ্চিত্রের মুক্তিতে গতি আসা শুরু করছিল। সবাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী থেকে শুরু করে সিনেমা হল মালিক- প্রত্যেকের তাই দৃষ্টিই ছিল ঈদের চলচ্চিত্রের দিকে।

মুক্তির প্রথমদিন থেকেই আমার অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’র হল রিপোর্টও দারুণ পাচ্ছিলাম। বিশেষ করে ‘গলুই’-এর দর্শকপ্রিয়তা ছিল শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম ভালো লাগার।

সুস্থ ধারার এই চলচ্চিত্র দেখতে মানুষ পরিবার নিয়ে আবার সিনেমা হলমুখী হয়েছেন; সংশ্লিষ্ট সকলেও তেমনটাই বলছিলেন। সব শ্রেণির দর্শকদের থেকে ইতিবাচক সব প্রতিক্রিয়া পাচ্ছিলাম। এমনকি দেশের প্রতিষ্ঠিত সব গণমাধ্যমেও সেই খবর উঠে আসছিল।

সরকারি অনুদানে তৈরি ‘গলুই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছিল; যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছিল।

তিনি আরও লেখেন, কারও হয়তো অজানা নয় যে, ‘গলুই’-এর বেশিরভাগ শুটিং জামালপুর জেলায় হয়েছে। ফলে অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে ‘গলুই’ নিয়ে সেখানকার মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই জেলা শহরে নেই কোনো সিনেমা হল! বাধ্য হয়ে ‘গলুই’ সংশ্লিষ্টরা জেলা শিল্পকলাসহ চারটি মিলনায়তনে ঈদের দিন থেকে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এসব মিলনায়তনে দর্শকেরও উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া।

একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার এই সংকটকালে জামালপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় ‘গলুই’ মুক্তির বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যা হতে পারত সিনেমা হলহীন অন্য জেলা কিংবা উপজেলা শহরগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত। বাস্তবে ঘটল উলটোটা! বাঁধ সাধলো জামালপুর জেলা প্রশাসন! সিনেমাপ্রমীদেরও মন ভেঙে গেল।

নানান মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন উল্লেখ করে শাকিব লেখেন, শত বছর আগের তৈরি ‘সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট’-এর দোহাই দিয়ে মিলনায়তনগুলোতে ‘গলুই’-এর প্রদর্শনী বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে! যা শুধু আমাকে ব্যথিত করেনি, বরং বিস্মিত ও হতবাক করেছে। ‘গলুই’ চলচ্চিত্রটি যখন সাধারণ মানুষেরা সানন্দে গ্রহণ করেছেন, পরিবার নিয়ে দেখছেন; তখন এর প্রদর্শনী বন্ধের খবরে চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছেন।

অতীতে বিকল্প ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে! সেই সব চলচ্চিত্র প্রদর্শনে প্রশাসন সহায়তা করেছে। তাহলে ‘গলুই’ বিকল্প ব্যবস্থায় প্রদর্শন হতে সমস্যা কোথায়?

চলচ্চিত্রের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখি পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি। সিনেমা হল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের সঠিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সিনেমা নির্মাণে বড় অনুদানসহ সরকারের বেশকিছু পরিকল্পনা হয়ত এখন বাস্তবায়নের পথে। একইসাথে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চলচ্চিত্র উন্নয়নের আশ্বাস সবসময়ই দিয়ে থাকেন। আর সেই সময় যখন ব্রিটিশ আমলে তৈরি চলচ্চিত্র স্বার্থবিরোধী আইন দিয়ে পথ রোধ করা হয়, তখন বিষয়টি হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বজয় করা তো দূরে থাক, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব! -বললেন শাকিব।

সবশেষে তিনি লেখেন, আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় খুব শিগগির জামালপুরসহ যেসব জেলায় সিনেমা হল নেই, সেখানকার মিলনায়তনগুলোতে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘গলুই’-এর মতো সুস্থধারার চলচ্চিত্র দেশের মানুষকে উপভোগ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানের ‘গলুই’ সিনেমা নৌকাবাইচ ও একটি পিরিওডিক্যাল গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক। গত ২৯ ডিসেম্বর সিনেমাটি সেন্সর থেকে মুক্তির অনুমতি পায়। শাকিব-পূজা ছাড়াও সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন আলী রাজ, সুচরিতা, সমু চৌধুরী, তাজিম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *