ঈদ উপলক্ষে দেশব্যাপী মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান ও পূজা চেরি অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। এটি নির্মাণ করেছেন এস এ হক অলিক। মুক্তির পর থেকে দর্শকের দারুণ সাড়া পাচ্ছে সিনেমাটি।
বিশেষ করে জামালপুরে ‘গলুই’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ একটু বেশিই। কেননা সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল এই জেলার বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু এখানে কোনো সিনেমা হল নেই। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেলার শিল্পকলা একাডেমি ও দুটি অডিটোরিয়ামে ‘গলুই’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
ঈদের দিন থেকেই তিনটি স্থানে ‘গলুই’ দেখার জন্য বিপুল দর্শকের সমাগম হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ পড়ল ছেদ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জামালপুর শিল্পকলা একাডেমিতে সিনেমাটির প্রদর্শনী। জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামানের নির্দেশেই এমনটা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নির্মাতা এস এ হক অলিক বলেন, “১৯১৮ সালের এক আইনে বলা আছে, সিনেমা হল ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিনেমা চালানো যাবে না। এ কারণে ‘গলুই’ প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছেন ডিসি। আমি তাকে বারবার ফোন করেছি, কিন্তু রিসিভ করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করব।”
এদিকে ‘গলুই’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সিনে পাড়ার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলী সামিল হয়েছেন প্রতিবাদে।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেখেন আমাদের এটাই প্রাপ্য। কারো সিনেমা আটকানো হলে আমরা বাকিরা যখন সেটা উপভোগ করি, রসালো গল্প তৈরি করে অনলাইনে ছাড়ি, তখন নানারকম বিধি নিষেধের গিলোটিন আমাদের ওপর নাজিল হবে না কাদের ওপর হবে? আমরা যখন এইসব করে বেড়াবো, ঠিক ঐ অবসরেই আইন করা হবে যে, ডিসি চাইলে এমন কি সেন্সর পাওয়া ছবিও আটকে দেয়া যাবে। বাই দ্য ওয়ে, জামালপুরের সিনেমার প্রদর্শনী কিন্তু কনটেন্টের জন্য বন্ধ করা হয় নাই। করা হইছে সিনেমা হলের বাইরে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা দেখানোর অপরাধে। কিন্তু ডিসি চাইলে কনটেন্টের জন্যও সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করতে পারেন, এমনকি সেন্সর হওয়ার পরও। নতুন নীতিমালাতে এটা ছাড়াও আরও ভয়াবহ আইন আছে।’
ফারুকী আরও লিখেছেন, “সুতরাং শিল্পীর স্বাধীনতা বিষয়ে আপনি মনে মনে অনেক কিছু প্রত্যাশা করতে পারেন। বাস্তবে আপনার হাত পা পুরাই বাঁধা! এই বিষয়ে সরকারের সাথে আমরা আমাদের নেগোসিয়েশন যথাযথ করতে পারি নাই। কেনো পারি নাই এটা সবাই নিজেদের প্রশ্ন করলে উত্তর পাইয়া যাবেন। এখন তাই কেবল নির্দোষ প্রেমের গল্প ছাড়া আপনার হাতে বানানোর মতো আর কিছু নাই। সেই নির্দোষ প্রেমের গল্পও অবশ্য ব্যান খাইতে পারে সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত করার জন্য। যেরকম আমার ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ আর ‘ব্যাচেলর’ খাইছিলো কয়েক মাসের জন্য।”
