ভোটে কারচুপি হলে এক প্যানেলরই সবাই পাস করতো: পীরজাদা হারুন

অভিনেতা পীরজাদা শহীদুল হারুন চলতি বছর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বলেছেন, নির্বাচনে দুই প্যানেলরই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যদি কোনো অনিয়ম হতো তাহলে এক প্যানেলরই সবাই পাস করতো। দুই প্যানেল থেকে পাস করতো না।

মঙ্গলবার (৩ মে) সঙ্গে ক্যারিয়ার, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন পীরজাদা শহীদুল হারুন।

এর আগে পীরজাদা শহীদুল হারুন বলেন, ধানমন্ডির মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ে বাসায় এসে সবার সঙ্গে কথা হলো। অনেকের সঙ্গে ফোনে কথা হলো। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলাম। এরপর বাসায় ঈদের রকমারি খাবার খেয়ে এখন টিভির সামনে বসে আছি। নাটক দেখব। এবার আমার অভিনীত আট-দশটি নাটক প্রচার হচ্ছে বিভিন্ন টেলিভিশনে।

এই চলচ্চিত্র অভিনেতা ছোট বেলার ঈদ আনন্দের কথা স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই মনের মধ্যে বেশ উৎসাহ থাকতো, কবে চাঁদ উঠবে, কবে ঈদ হবে। অপেক্ষায় থাকতাম চাঁদ দেখার জন্য। এরপর ঈদের নতুন জামা-কাপড় থাকতো। তা কিছুক্ষণ পর পর বের করে দেখতাম। পোশাকগুলো আলনায় রেখে দিতাম। কখনো আবার নতুন জুতা বিছানার মধ্যে রেখে দিতাম।

ঈদের চাঁদের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন যখন চাঁদ উঠতো তখন সব বন্ধুরা মিলে অনেক রাত পর্যন্ত ঈদ ঈদ বলে মিছিলের মতো করতাম। ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই গানটাও সবাই একসঙ্গে গাইতাম। আবার রাতে যখন ঘুমাতাম তখন মনে হতো দ্রুত সকাল হয় না কেন। পৃথিবীর সবথেকে বড় রাত মনে হতো সেই রাতকে। এরপর সকাল হলে গোসল করে নতুন জামা-কাপড় পরে মা-বাবাসহ সবাইকে সালাম করতাম।

পীরজাদা বলেন, ছোট বেলার দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। এখন তো আর সেই ছোট বেলায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এখন ঈদের দিন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখা হয় না। বাসায় বসে সিনেমা দেখি। ঈদের পরে অবশ্য প্রেক্ষাগৃহে যেয়ে দেখা হয়। তবে এবার ঈদের পরদিন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে শাকিব খানের ‘বিদ্রোহী’ সিনেমাটা দেখব আমি। শাহীন সুমন পরিচালিত ‘বিদ্রোহী’ সিনেমাটি দেশে সর্বাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এটা আজ না পারলেও আগামীকাল দেখব।

এছাড়াও এই অভিনেতা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, আগেও বলেছি এখনো বলি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এখানে একজনের ভোট অন্য কেউ দিতে পারেনি। যার যার ভোট সে সে দিয়েছে। এখানে একটা ব্যালট পেপারে দশটি পদ ছিল। নির্বাqচনে যদি কোনো কারচুপি হতো তাহলে পুরো প্যানেলে ভোট যেত। প্যানেলের সবাই পাস করতো বা ফেল করতো। ভোটের ফলাফলে তা কিন্তু হয়নি।

নির্বাচন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন প্যানেলের রিয়াজ সারাক্ষণ ছিল। গুলজারও উপস্থিত ছিল। যদি ভোটে বা কোনো প্যানেলে কারচুপি হতো তাহলে এক প্যানেলেরই সবাই পাস করতো। তাতো হয়নি। দেখা গেছে, নিপুন প্যানেলেরই ৬ জন পাস করেছে আর মিশা-জায়েদ খান প্যানেলের ৪ জন পাস করেছে।

পীরজাদা হারুন নির্বাচন পরবর্তী অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ভোটে হারলে অনেকে সেই কষ্ট সহ্য করতে পারে না। তখন অনেকে নির্বাচনে অনিয়ম, ভোটে কারচুপি, মিডিয়া কারচুপিসহ নানা অভিযোগ তুলে। এখন বিষয়টি যেহেতু আদালতে গেছে সেখানেই প্রমাণ হবে পুরো বিষয়টি আসলে কী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *