ঝরে যাওয়ার জন্য আসিনি, প্রতিবছর গান উপহার দেবো: মাহফুজুর রহমান

বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. মাহফুজুর রহমান। তারই উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা বিশ্ব বাঙালীর কাছে তুলে ধরছে এদেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে। চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারুণ্যের উচ্ছাসকে তিনি এগিয়ে নিচ্ছেন এটিএন বাংলার মাধ্যমে। তাঁর অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গানের শিল্পী।

সম্প্রতি ড. মাহফুজুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, ছোটবেলায় আপনার কী হওয়ার ইচ্ছা ছিল—সংগীতশিল্পী, নাকি ব্যবসায়ী?

ড. মাহফুজুর রহমান: ক্লাস টেন পর্যন্ত আমি কখনো দ্বিতীয় হইনি। প্রথম হয়েছি। যারা ক্লাসে প্রথম থাকে, তারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। আমিও ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম। ডাক্তারি ভর্তির লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছিলাম। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় গিয়ে আউট হই। আর ডাক্তারি পড়া হয়নি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করি। গান গাইব—এ রকম ভাবনা আমার কখনো ছিল না। আবার টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করব, সেটাও ভাবিনি। হঠাৎ করেই এগুলো হয়েছে। আর পারিবারিকভাবেই তো আমাদের ব্যবসা ছিল।

তাকে আরও প্রশ্ন করা হয়: ২০১৬ সালের ঈদুল আজহায় এটিএন বাংলায় ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানে আপনি প্রথম গান করেন। এ বছর ঈদুল ফিতরে ‘প্রিয়ারে’ নামে একটি অনুষ্ঠানেও শ্রোতারা আপনার গান শুনেছেন। সর্বশেষ ঈদুল আজহায়ও ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’ নামে একটি একক সংগীতানুষ্ঠানে আপনি গেয়েছেন। তিনটি অনুষ্ঠান থেকে দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

ড. মাহফুজুর রহমান: প্রথমেই বলি, ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষ আমার গানের অনেক সমালোচনা করেছেন, অনেকে জঘন্য জঘন্য কথা বলেছেন। অনেক সাংবাদিকও এর মধ্যে আছেন। আমার সবচেয়ে দুঃখ লাগে যখন দেখি, এঁরা না বুঝে সমালোচনা করছেন। আমার গানের সমালোচনা যদি সাবিনা ইয়াসমিন বা রুনা লায়লা করতেন কিংবা অন্য কোনো ছেলেশিল্পী করতেন, আমার আপত্তি থাকত না। কিন্তু যারা গানের ‘গ’-ও বোঝে না, তারাই ফেসবুকে সমালোচনা করছে।

ফেসবুকে এমনও অনেকে লিখেছে, ‘মাহফুজুর রহমানের মতো কত গায়ক আসছে, কত গেছে। দুই দিন পর ঝরে যাবে।’ আমিও এখন তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলব, আমি ঝরে যাওয়ার জন্য আসিনি। আমি প্রতিবছর দু-তিনটা গান আপনাদের উপহার দেবো।

তিনি বলেন, গত ঈদে আমার গান টিআরপিতে ওপরে ছিল। এবারও দেখবেন, আমার গান টিআরপিতে ওপরেই থাকবে। আমি দেখাতে চাই, মানুষ চেষ্টা করলে, ইচ্ছে করলে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। যাঁরা এখন সমালোচনা করছেন, তাঁরাই একদিন আমার কাজ স্বীকার করে নেবেন।

এসময় প্রশ্ন করা হয় আপনার গাওয়া ‘তোমাকে দেখে মন ভালো হয়ে যায়’, ‘এ জীবনের অর্থ কী’, ‘চার দেয়ালের মাঝখানে আজ’, ‘তোমার এ হৃদয় জুড়ে’, ‘বেঁচে থাকা বড় কঠিন’, ‘হাত বাড়াও আমি আছি’ গানগুলোতে প্রেম যেমন রয়েছে, তেমনি বিরহও রয়েছে। আপনার গানে রোমান্টিকতা ও বিরহের প্রাধান্য কেন?

ড. মাহফুজুর রহমান: আমি কাউকে হারাইনি, কারো প্রেমেও আমি ব্যর্থ হইনি। ছোটবেলা থেকেই আমি বিরহের গান বেশি শুনতাম। আমার সংগ্রহে বিরহের গান বেশি থাকত। বিরহের গানগুলো আমার গলার সঙ্গে যায়, তাই আমি গাই। আমি রক গান গাইতে গেলে পারব না। রক ও ফাস্ট গান আমাকে দিয়ে হবে না। আমার গলায় সেট হয় রোমান্টিক গানগুলো। বিরহের গানগুলো রোমান্টিক হয়। আমার লেখা একটা গল্প ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’। এই গল্প থেকে কিছুদিন পর একটি এক হাজার পর্বের সিরিয়ালের শুটিং শুরু হবে। এই সিরিয়ালের টাইটেল সং হবে ‘চার দেয়ালের মাঝখানে আজ’। গানটি সংগীত পরিচালক মান্নান মোহাম্মদের স্ত্রী লিখেছিলেন। গান লেখার সময় সিরিয়ালের কাহিনী তাঁকে জানানো হয়েছিল। গল্পের কাহিনী হচ্ছে, একটি হিন্দু মেয়ের সঙ্গে একজন মুসলিম ছেলের প্রেমের সম্পর্ক থাকে। মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির বিয়ে দিতে রাজি হয় না তার পরিবার। তখনই ছেলেটি ‘চার দেয়ালের মাঝখানে আজ’ গানটি গাইবে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নিজের বাড়িতে বসে গানটি সে গাইবে।

ব্যর্থ প্রেমের গান আমার ভালো লাগে। গানগুলো অনেক মেলোডিয়াস হয়। বিরহের গান করা আমার শখ। রবীন্দ্রনাথের বিরহের গানগুলো আমি পছন্দ করি, ধুম-ধাড়াক্কা গান ভালো লাগে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *