আশি ও নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী রোজিনা। কবরী, শাবানাদের পাশাপাশি রূপালি পর্দায় আলো ছড়িয়েছেন রোজিনা। দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। উপহার দিয়েছেন তিনশ’র বেশি সিনেমা, যার বেশিরভাগই ব্যবসা সফল।
তবে এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের প্রথম সুপারহিট সিনেমা ‘রাজমহল’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান চলচিত্র, অতীতসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন রোজিনা।
প্রশ্ন: অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অভিমান আছে?
রোজিনা: ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কখনোই কোনো অভিমান ছিল না, নেই। স্বপ্ন দেখেছিলাম নায়িকা হব, হয়েছি। তবে চরিত্রের দিকে আরও কিছু সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক লেখকের সাহিত্য নিয়ে প্রচুর কাজ হতে পারত, তাহলে ইন্ডাস্ট্রি আরও সমৃদ্ধ হতো। মানুষ হিসেবে এমন কিছু অপ্রাপ্তি থাকবেই। নায়িকা হিসেবে আমি সফল।
প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে কখনো কি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
রোজিনা: আমি চলচ্চিত্রে এত দূর এসেছি নিজের চেষ্টায়। আমার কোনো গডফাদার ছিলেন না, যিনি আমাকে হাতে ধরে শিখিয়েছেন বা সহযোগিতা করেছেন। প্রযোজক, পরিচালক, সহকর্মীরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা চেষ্টা করেছেন, আমার ওপর যেন খারাপ কোনো ছায়া না পড়ে, সে জন্য তাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন, এখনো তা–ই। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে নিজে পথ চলতে গিয়ে আহামরি বা ক্ষতিকর ভুল আমি করিনি।
প্রশ্ন: একা পথ চলতে গিয়ে কতটা বাধা পেয়েছেন?
রোজিনা: তখন এত অভিনয়শিল্পী, মডেল, চ্যানেল ছিল না। মাধ্যম বলতে ছিল বিটিভি আর সিনেমা। ওই সময় কাজ করতেন কবরী ম্যাডাম, শাবানা, ববিতা। মাত্র সুচন্দা ম্যাডাম কাজ করছিলেন, অঞ্জনা কাজ করছিলেন। তাঁদের পেয়ে আমি ভাগ্যবতী। তেমন কোনো বাধা পেতে হয়নি। কিন্তু এমনও হয়েছে, চিত্রনায়িকা হিসেবে আমার নাম দিয়ে প্রেস কনফারেন্স করেছে। পরে দেখা গেল আমাকে বাদ দিয়ে অন্য নায়িকা নিয়েছে। তিন–চারটা সিনেমা থেকে বাদ পড়েছি। সেসব সময় ছিল কষ্টদায়ক। পরে ‘রাজ মহল’ সিনেমার প্রস্তাব আসে। তড়িঘড়ি সিনেমাটির কাজ শেষ হয়। সিনেমাটির মুক্তির পর আমাকে আর বেগ পেতে হয়নি, পেছনে তাকাতে হয়নি।
প্রশ্ন: আপনি সফল হয়ে উঠলেন, তখন কি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন?
রোজিনা: আমি যাঁদের ছবি দেখে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, পরে তাঁদের সঙ্গে এসে কাজ করেছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কাদের মনে করব? ম্যাডাম কবরী, শাবানা, ববিতাদের সামনে সেই দুঃসাহস কখনোই ছিল না। তাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি, সম্মান করেছি। তাঁরা অনেক সাহায্য করেছেন। পরে যাঁরা এসেছেন অঞ্জু, দিতি, অরুণা সবাই মিলেই কাজ করেছি। প্রতিদ্বন্দ্বী বলে কিছু ছিল না। ভালো করার চেষ্টা ছিল।
প্রশ্ন: বর্তমান ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকালে কী মনে হয়?
রোজিনা: ও–ও–ও! এটা আর বোলো না ভাই, কষ্ট লাগে। এই চলচ্চিত্রের কারণেই আমি রোজিনা। আমার জন্ম এখানে। আজকের এই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি চাইনি। এখন দেখে খুব কষ্ট হয়। একটা সময় ফ্লোরে ফ্লোরে, বাগানে বাগানে সিনেমার শুটিং হতো। সব চেনা মুখ। এখন খুঁজেও চেনা মুখ দেখা যায় না। রাস্তাঘাট নোংরা, ফ্লোরগুলোয় তালা দেওয়া, এসব দেখে কষ্ট হয়। আজ আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আরও ভালো জায়গায় থাকার কথা ছিল। তবে আমি এখনো আশাবাদী।
