বিচার চাই না, কার কাছে বিচার চাইব: নাহিদের বাবা

একবছর প্রেমের সম্পর্কের পর মাত্র ছয়মাস আগেই ডালিয়াকে বিয়ে করে বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই ভাইয়ের সংসারের হাল ধরেছিল রাজধানীর নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত নাহিদ।

সংসার চালাতে বেছে নিয়েছিল কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারি ম্যানের কাজ। কামরাঙ্গীরচরে ছোট্ট এক রুমের মধ্যে সাজিয়েছিল সুখের সংসার। কিন্তু তাঁর অকাল মৃত্যুতে এখন দিশেহারা পরিবার।

নববধূর হাতের মেহেদির রং এখনও মুছে যায়নি! কিন্তু এক নিমিষেই কর্পূরের মত নিমিষেই উড়ে গেল তার সব স্বপ্ন, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।

বুধবার (২০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে নাহিদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি নেওয়া হয়। বাসায় ফেরার পর বাবা মো. নাদিম হোসেন জানিয়েছেন নাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করবেন না তিনি।

নাহিদের বাবা বলেন, আমরা অসহায় মানুষ। আমার ছেলে একটা ঘটনায় মারা গেছে। আমি চাই দোষীদের বিচার হোক। কিন্তু আমি মামলা করুম না। কোনো মামলায় যামু না। আমি গরিব মানুষ।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কীভাবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমার ছেলে নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। কারও সঙ্গে ঝামেলার মধ্যে নেই। কে মারল, কেন মারল আমার ছেলেকে। ওর তো কোনো অপরাধ নেই। কারও কাছে বিচার চাই না। বিচার চেয়ে কী হবে। কার কাছে বিচার চাইব। মামলাও করতে চাই না। এটাই তো কপালে লেখা ছিল।’

নাহিদের বাবা বলেন, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে কিশোর বয়স থেকেই পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করে ছেলে। বেশিদূর লেখাপড়া করা হয়নি। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। এক সময় কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করত। ধীরে ধীরে সংসারের অভাবের বোঝাটা হালকা করার দায়িত্ব নিচ্ছিল। এর মধ্যে এত বড় অঘটন। ছেলের বউটাকে কীভাবে সামলাব। তাকে কী জবাব দেব। কাজে যাওয়ার পথে এমন মৃত্যু! শুনেছি অনেকে মিলে ওকে বেদম পিটিয়েছে। ও তো কোনো পক্ষের লোক না। নিউমার্কেটের হকারও না, কলেজের ছাত্রও না। এসব বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

মাস ছয়েক আগে তরুণ নাদিম বিয়ে করেন। পরিবার নিয়ে তিনি কামরাঙ্গীরচরে বসবাস করতেন। এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের একটি কম্পিউটার সরঞ্জামের দোকানে ডেলিভারিম্যানের কাজ করতেন নাহিদ।

মঙ্গলবার সকালে কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিউমার্কেট হয়ে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু নুরজাহান মার্কেটের সামনে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন নাহিদ। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *