আসলেই আমি সৌভাগ্যবতী: বাঁধন

আজমেরী হক বাঁধন এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। সেখানে বসেছে ‘ইন্ডিমিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’, অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের দুটি সিনেমা। এর মধ্যে আছে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ও নুহাশ হুমায়ূনের ‘মশারি’। সিনেমা দুটির জন্য এর কলাকুশলীরা এখন টেক্সাসে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকে মুঠোফোনে বাঁধন বলেন, “এই ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ১৬ এপ্রিল দুপুরে ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ স্ক্রিনিং হয়। একটি মাত্র শো ছিল। বিশ্বাস করেন, পুরো হল হাউসফুল! এই ফেস্টিভ্যালে আমার চলচ্চিত্রটি দেখতে ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিখ্যাত সব প্রযোজক, ডিরেক্টর, অভিনেতা এসেছিলেন। আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দল বেঁধে চলচ্চিত্রটি দেখতে এসেছেন। খুবই ভালো লেগেছে এ বিষয়টি।

চলচ্চিত্রটি শেষ হওয়ার পর হাউস থেকে বের হয়ে সবাই অভিনয়, সিনেমার কালার, সংগীত, চিত্রনাট্যসহ নির্মাণদক্ষতা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বাইরে বের হয়ে তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে আমার সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, চলচ্চিত্রটিতে আমার অভিনয়ের ভালো লাগা দিক সম্পর্কে বলেছেন, ফটোসেশন করেছেন। মজার বিষয় হচ্ছে, বিখ্যাত নির্মাতা নলিন কুমার পান্ডে তাঁর মাথা থেকে হ্যাট খুলে আমাকে পরিয়ে দিয়েছেন। এটা সত্যিই আনন্দের!

অন্যদিকে অভিনেতা রজত কাপুরসহ বলিউডের অন্যরা আমার পারফরমেন্সের ভক্ত হয়েছেন, প্রশংসা করেছেন; একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তালিও দিয়েছেন। আমি খুবই আপ্লুত ও মুগ্ধ। আমি বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্টস করছি, তা ভেবে গর্ব হচ্ছিল তখন। আসলেই আমি সৌভাগ্যবতী। এত রথী-মহারথীর সঙ্গে না মিশলে বুঝতেই পারতাম না আমার জন্য সুন্দর একটি পৃথিবী অপেক্ষা করেছিল। খুবই ইনজয় করছি। ভয়, দ্বিধা, অস্বস্তি ছাড়া সময় কাটছে। এই অর্জন কিন্তু আমার একার নয়, পুরো ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ টিমের।”

বাঁধন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে দেশীয় চলচ্চিত্র দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকেন, তা ওই উৎসবে না গেলে বুঝতেই পারতাম না। এটা অভাবনীয় ব্যাপার ছিল। পুরো বাংলাদেশকে সেদিন দেখতে পেয়েছি অচেনা জায়গায়। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি চলচ্চিত্রটি দেখতে এসেছেন। অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, ফটোসেশন করেছেন। এটা যে কি ভালো লাগার, বোঝাতে পারব না! তবে এ উৎসবে বাঙালিদের একত্রিত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন রবিউল ইসলাম ও ফারিয়া হোসেন আপু। তাঁরা না থাকলে বাঙালি কমিউনিটির সবাইকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হতো না। তাঁদের জানাই অনেক কৃতজ্ঞতা।

জানা গেছে, মেমি উৎসবের পর বাঁধন অংশ নেবেন নিউইয়র্কের আরেকটি উৎসবে। ঈদের আগেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *